থামছে না ঝিনাইদহে বিজিবির গুলিতে হতাহত পরিবারের কান্না

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের মাটিলা গ্রামের মানুষের কান্না থামছে না। নীরিহ মানুষের উপর গুলি চালানোয় গ্রামবাসিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। তারা ঘটনার সাথে জড়িত বিজিবি সদস্যদেও দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবী করেছেন।

ঘটনাস্থল মাটিলা বাজারের রফিকুলের চায়ের দোকানের রক্তের দাগ এখনো মুছে যায়নি। নিহত রফিকুলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন তার তিন মাস বয়সী শিশু কন্যা আফরোজাকে নিয়ে প্রলাপ করছেন। ১৫ বছর পর রফিকুল ও রোজিনার ঘর জুড়ে আসে এই শিশু কন্যাটি। শিশু কন্যাটিকে ঘিরে রোজিনা রফিকুল দম্পতির কত আনন্দ ছিল। কিন্তু বিজিবির গুলিতে সে স্বপ্ন তাদের চুরমার হয়ে গেছে। তিনি ছিলেন মাটিলা বাজারের একজন সাধারন চায়ের দোকানদার।

এ ঘটনায় আরও আহত হন একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ফিরোজ, আজিবর রহমানের ছেলে বাবলু মিয়া তাদের একজনকে যশোর জেনারেল হসপিটালে ও অপরজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নিহতর ও আহতদের আত্মীয়স্বজনরা দাবী করেন, এই নির্মম ও নজীরবিহীন হত্যাকান্ড কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ নিহত রফিকুেলর গরু ব্যবসার সাথে নুন্যতম সংশ্লিষ্ঠতা নেই।

এলাকাবাসীর দাবী বিজিবি দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবেই আমদেও নিযাতন করছে । নিহত রফিকুল বা আহতরা কেও গরু ব্যবসার সাথে জড়িত নয়।

৯ নম্বর যাদপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত বিজিবি সদস্যদের বিচার ও শাস্তির দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় সীমান্তের জলুলী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা মাটিলা সীমান্তে টহল দিচ্ছিল। সেসময় ক্যাম্প থেকে একটি গরু ছুটে চলে আসে মটিলা বাজারে। সদস্যরা গরু উদ্ধার করে নিয়ে চলে যাবার পর বজারে উপস্থিত জনগনের সাথে গোলমালে জড়িয়ে পরে। সেসময় বিজিবি ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে রফিকুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

বিজিবি যশোর ২৬ ব্যাটেলিয়ানের পরিচালক লে: কর্ণেল মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, হতাহতরা চোরাকারবারী ও গরু ব্যবসার সাথে জড়িত। দলবদ্ধ হয়ে বিজিবির উপর হামলার পরই বিজিবি সতর্ক মুলক ফাঁকা গুলি চালায়। এরপরও তারা ইটপাটকেল ও দেশী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ছুটে আসতে থাকলে নিচেরম দিকে গুলি ছোড়া হয়। এতে এক জন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

  •  
  •  
  •  
  •