যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ, বাঙ্কারে লুকিয়েছিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বড় শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নির্মমভাবে নিহতের ঘটনায় আমেরিকার চল্লিশটি শহরে যেভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তাতে প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়ির সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এসময় শত শত বিক্ষোভকারী বাড়ির গেটের বাইরে জড়ো হয়ে ইট-বোতল নিক্ষেপ করতে থাকেন।

সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি ও নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটনে সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের বাইরে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। তাদের হাতে নানা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এসময় তারা শ্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভকারীরা ইট-বোতল নিক্ষেপ করতে থাকেন। আতশবাজি জ্বালাতে থাকেন। কমপক্ষে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এসময় দাঙ্গা পুলিশ এসে হোয়াইট হাউস থেকে পুরো স্কোয়ার ঘিরে ধরে। এতে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বাইরে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে হোয়াইট হাউসে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহধর্মিণী মেলেনিয়া ট্রাম্প, ছেলে ব্যারন ট্রাম্প।

এ সময় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় তাদের সবাইকে হোয়াইট হাউজের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে নিয়ে যান সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। ট্রাম্প বাঙ্কারে এক ঘণ্টার কম সময় ধরে ছিলেন। এর পর তাকে উপরে নিয়ে আসা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ব্যবহার করে সাউন্ড গ্রেনেড।

ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটারে লিখেন, ‘কঠোর হন ডেমোক্র‍্যাট মেয়র এবং গভর্নর। এই মানুষগুলো নৈরাজ্যবাদী। এখনই ন্যাশনাল গার্ডকে ডাকুন। বিশ্ব আপনার ঘুমন্ত অবস্থা দেখে হাসছে। এটাই কি আমেরিকা চায়? না!!!’

জানা যায় শুক্রবার রাতে বিক্ষোভের পর এমনকী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গোয়েন্দা দপ্তর থেকে কিছুক্ষণের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে মাটির নিচের একটি বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রায় এক ঘণ্টা ওই বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়।

তবে মি. ট্রাম্পের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং তাদের ১৪ বছরের ছেলে ব্যারনকেও বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়।

এই বাঙ্কার তৈরি করা হয় কোনরকম সন্ত্রাসী হামলার সময় প্রেসিডেন্টকে জরুরিকালীন ব্যবস্থায় সরিয়ে নেবার লক্ষ্যে।

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের বাইরে যে বিক্ষোভ হয়েছে তাতে নাইন-ইলেভেন হামলার পর প্রথমবারের মত আমেরিকান প্রেসিডেন্টের বাসভবনের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গোটা সপ্তাহান্ত জুড়ে বিক্ষোভকারীদের শ্লোগান শোনা গেছে হোয়াইট হাউসের বাইরে। এবং বিক্ষোভকারীদের দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •