রংপুরে শিশু রওনক হত্যার মূলহোতা গ্রেফতার

সনজিৎ কুমার মহন্ত

রংপুরের আদর্শপাড়া এলাকার চার বছরের শিশু রাহিমুল ইসলাম রওনক হত্যার ঘটনায় জড়িত মূলহোতা মোবাশ্বের আলমকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার তুরাগপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মোবাশ্বের আলমের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারেস শিকদার সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশু রওনক হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মোবাশ্বের।

পুলিশ সুপার বলেন, নিহত রওনকের বাবা মোছাদ্দেক হোসেন রাঙ্গার খালাতো ভাই মোবাশ্বের। মোছাদ্দেকের সাথে আর্থিক লেনদেনের জের ধরে শিশু রওনককে অপহরণ করে ওই দিনেই শ্বাসরোধে হত্যা করে মোবাশ্বের। এরপর বাড়ির পাশে একটি রোপা আমন ক্ষেতের মধ্যে পানি তোলার জন্য তৈরী করা গর্তে রওনকের মরদেহ ফেলে দেয় ঘাতক মোবাশ্বের। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর গত শুক্রবার রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানীপাড়ার ওই ধান ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মোবাশ্বের আলমকে রিমাণ্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলেও পুলিশ সুপার জানান।

নিহত রওনকের বাবা মোছাদ্দেক হোসেন রাঙ্গা বলেন, ১ ডিসেম্বর তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বেলা আড়াইটার দিকে তার স্ত্রীর মোবাইলে জানতে পারেন রওনককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ি ফিরে এলাকার লোকজনের কাছে জানতে পারেন, গায়ে কালো জ্যাকেট ও জিন্সের প্যান্ট পরিহিত একজন লোক রওনকের কাছে যায়। রওনক তাকে মামা বলে ডাকে। লোকটি চিপস কিনে দেয়ার কথা বলে রওনককে বাসার উত্তর পার্শ্বে টার্মিনালগামী পাকা রাস্তায় নিয়ে যায়। প্র্যক্ষদর্শীর বর্ননা মতে, ওই ব্যক্তি তার খালাতো ভাই মোবাশ্বের আলম।

ঘটনার দিন রাতেই কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন তিনি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে শিশুটিকে না পাওয়ায় ৩ ডিসেম্বর তার খালাতো ভাই মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিয়নের পাইকারের হাট এলাকার মোবাশ্বের আলমকে প্রধান আসামি করে কোতয়ালী থানায় অপহরণ মামলা করেন রাঙ্গা।

  •  
  •  
  •  
  •