১০৫ একর আমন বীজতলা প্রস্তুত গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের
নিউজ ডেস্কঃ
গেল বন্যায় গাইবান্ধা জেলায় কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে আমন বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের। এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে চারা বিতরণের জন্য ১০৫ একর আমন বীজতলা প্রস্তুত করেছেন কৃষি বিভাগ। এছাড়া ১০০টি ভাসমান বীজতলাও রয়েছে তাদের জন্য।
জানা যায়, সম্প্রতি বন্যায় গাইবান্ধা জেলার নিম্ন ও চরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। এসব মানুষের ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আমন ধান চাষাবাদ শুরু করেছেন। তবে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র চারা সংকট। এ নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। সংকট মোকাবিলায় কৃষি বিভাগ কর্তৃক চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
সাঘাটা উপজেলার কৃষক খয়বার রহমান বলেন, ‘গেল বন্যায় আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এরই মধ্যে এক একর জমিতে আমন ধান চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে চারা সংকটের কারণে জমি রোপণ করতে পারছি না।’
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বয়ে যাওয়া বন্যায় পাট ১ হাজার ৯৮০ হেক্টর, আমন বীজতলা ৮২ হেক্টর, আউশ ধান ১৬০ হেক্টর, সবজি ২৬৮ হেক্টর, তিল ৩০ হেক্টর, চীনা বাদাম ১৩ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রেজা-ই-মাহমুদ বলেন, ‘এরইমধ্যে উঁচু অঞ্চলের কৃষকরা আমন চারা রোপণ শুরু করেছেন। যাতে করে ভালো ফসল ঘরে তুলতে পারেন। সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, সম্প্রতি বন্যায় কৃষকদের ৮২ হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তাদের সহায়তাকরণে সরকারিভাবে ১০৫ একর জমিতে ও ভাসমান ১০০টি আমন বীজতলা প্রস্তুত রয়েছে। উৎপাদিত এসব চারা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন
ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে উঁচু এলাকায় অর্জিত হয়েছে ৪০ হাজার হেক্টর।

