হারিয়ে যাচ্ছে তিস্তায় চর গোকুন্ডা

নিউজ ডেস্কঃ

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউপির চর গোকুন্ডা গ্রামটি তিস্তার ভাঙনে ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গোকুন্ডা ইউপির এই গ্রামটি।
তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, ফলের বাগান। হুমকিতে রয়েছে বসতভিটা ও আবাদি জমি।

চর গোকুন্ডা গ্রামের কৃষক মোত্তালেব হোসেন বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে চর গোকুন্ডায় তিস্তার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ৫০টি বসতভিটা ও কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে গত দুই মাসে আরো ৬০টি বসতভিটা ও বিপুল পরিমান আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে।

 

অপর এক কৃষক খাইরুল বসুনিয়া বলেন, তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার মানচিত্র থেকে গোকুন্ডা ইউপির চর গোকুন্ডা গ্রামটি হারিয়ে যেতে আর বেশিদিন সময় লাগবে না।

ভাঙন ঠেকাতে দুইমাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৭ লাখ টাকা খরচে ১৪ হাজার ৭৫০টি জিও-ব্যাগ ডাম্পিং করার কাজ হাতে নিলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারের গাফলতির কারণে চর গোকুন্ডা গ্রামের মানুষজন বসতভিটা, আবাদি জমি ও বেঁচে থাকার অবলম্বন হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায় ও অন্যের জমিতে। অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন অজানা ঠিকানায়।

ওই গ্রামের এক স্কুল শিক্ষক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ সময়মতো শেষ না করায় চর গোকুন্ডায় তিস্তার ভাঙন থামছে না। একের পর এক বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে যাচ্ছে।

ভাঙন কবলিত চর গোকুন্ডা গ্রামের এক কলেজ ছাত্র ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় নদী থেকে বালু তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ ভাঙন কবলিত এলাকাতেই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ফসলি রোপা আমনের ক্ষেতগুলো বালু দিয়ে ভরাট করছে। আর এ কারণেই ভাঙন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে একটি কাজ পাঁচ ভাগ করে পাঁচ ঠিকাদার করছেন। সে কারণে কাজের কোনো গতি নেই।

তিনি আরো বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জিও-ব্যাগ প্রস্তুত করে তা ডাম্পিং করা না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করা হবে।

জিও-ব্যাগে বালু ভরাটের নামে যাতে নদীর কিনারা থেকে বালু তোলা না হয় সেজন্য তারা বিশেষ নজর দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: