পঞ্চগড়ে চিতাবাঘ আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা মানুষদের

নিউজ ডেস্কঃ

পঞ্চগড়ে তিন চিতাবাঘের বিচরণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ। জেলার তেতুঁলিয়ার সাতমেরা ও দেবনগড় ইউপির মুহুরিজোত, সাহেবীজোত, উষাপাড়া ও বাদিয়াগজ গ্রামে গত একমাস ধরে বাঘের আনাগোনা, গরু, ছাগল ও কুকুর ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাই বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী।

চার একর জমিতে পুরোনো চা বাগানের ঝোঁপে বাঘ দুটি ছানাসহ ঘাপটি মেরে আছে। অতি উৎসাহীরা চা বাগানের ভেতরে ঢুকে বাঘ দেখার চেষ্টাও করছে। ছানাসহ বাঘগুলো ধরতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ পেতে রেখেছে এলাকাবাসী।

এদিকে, বাঘ ধরতে অভিযান শুরু করেছেন বনকর্মীরা। তারা বাঘের পায়ের ছাপ খুঁজে পেলেও এখন পর্যন্ত বাঘ দেখতে পায়নি।

বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় সদরের ইউএনও আরিফ হোসেন, পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের এসআই শাহীনুজ্জামান, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, পঞ্চগড়ের ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল হাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, দুটি বাচ্চাসহ একটি চিতাবাঘ ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডকে (বিজিবি) জানিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

এর পরই ওই এলাকার লোকজন লম্বা ও গায়ে কালো গোল ছোপওয়ালা প্রাণী দেখতে পান। সম্প্রতি, রাত হলেই দুটি বাচ্চাসহ পূর্ণ বয়স্ক বাঘ গ্রামের দিকে চলে আসে। গত এক সপ্তাহ ধরে বাঘের আনাগোনা আরো বেড়েছে। এতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাট-বাজারে যাচ্ছে না, গেলেও দল বেঁধে যাচ্ছে। এছাড়া, গ্রামকে বাঘের হানা থেকে রক্ষা করতে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর ধারণা, ওই এলাকায় অবস্থিত চার একর জমিতে পুরোনো চা বাগানের ঝোঁপে বাঘ দুটি ছানাসহ ঘাপটি মেরে আছে। অতি উৎসাহীরা চা বাগানের ভেতরে ঢুকে বাঘ দেখার চেষ্টাও করছে। ছানাসহ বাঘগুলো ধরতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ পেতে রেখেছে এলাকাবাসী।

পঞ্চগড় সদরের ইউএনও মো. আরিফ হোসেন বলেন, গরু হত্যা ও বাঘের পায়ের ছাপ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই এলাকায় বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ডিসি বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। এছাড়া আমরা বন বিভাগের সমন্বয়ে বাঘটিকে ধরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এলাকায় পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। এছাড়া বাঘের আক্রমণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সহযোগিতা করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: