উদ্ধার হওয়া ভূমিতে বনায়নের উদ্যোগ জাফলংয়ে

নিউজ ডেস্কঃ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে উদ্ধার হওয়া জমিতে পুনরায় বৃক্ষরোপণ করছে বন বিভাগ। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ২২ একর ভূমি দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ভূমিতে এখন গাছ রোপণ করা হচ্ছে। এ বনায়নের মধ্য দিয়ে জাফলং আগের মতো সবুজ রূপ ফিরে পাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের অন্যতম পর্যটন সমৃদ্ধ উপজেলা গোয়াইনঘাট। জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, লালাখাল, পাংথুমাইয়ের মতো নৈসর্গিস সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান রয়েছে এ উপজেলায়। সিলেটে বন বিভাগের সবচেয়ে বেশি জমিও এ উপজেলায়। কাগজে-কলমে তা প্রায় ২২ হাজার ২০৭ একর। তবে এর বেশির ভাগই দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। প্রকৃতি কন্যা হিসেবে পরিচিত জাফলংয়ে মোট বনভূমি রয়েছে ৬ হাজার ৮৭১ একর। এর মধ্যে ৫৩৭ একর জায়গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে এ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ২৫০ হেক্টর ভূমিই দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা।

জাফলংয়ের পাশেই তামাবিল স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা হয় পাথর ও কয়লা। এসব পণ্য রাখার জন্য বন্দর এলাকায় নেই ডাম্পিং ইয়ার্ড। ফলে ব্যবসায়ীরা সড়কের পাশের বনের জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন ডাম্পিং ইয়ার্ড। এছাড়া বনের জমি দখল করে ওই এলাকায় গড়ে ওঠেছে দুই শতাধিক পাথর ভাঙার কল। এসব স্থাপনা নির্মাণে নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে গাছপালা।

দীর্ঘদিন পর দখল হয়ে যাওয়া এসব জমি উদ্ধারে তত্পর হয়েছে বন বিভাগ। করোনাকালীন তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকার কারণে ফাঁকা ছিল দখল করা ডাম্পিং ইয়ার্ডগুলো। এ সুযোগে নিজেদের সাড়ে ২২ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে নিয়েছে বন বিভাগ। পুনরুদ্ধার করা ভূমিতে বৃক্ষরোপণও করা হচ্ছে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বনের বেহাত হওয়া সব জমি উদ্ধার করতে আমরা তত্পরতা চালাচ্ছি। তবে অনেক জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় তা এখনই উদ্ধার করা যাচ্ছে না। তবে যেসব জমি দখল করে পাথর রাখা হয়েছিল তার বেশির ভাগই উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা জমিতে আবার সবুজায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বন বিভাগের সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সম্প্রতি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ২২ দশমিক ৫ হেক্টর ভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত জমিতে গাছপালা লাগিয়ে বাগানে রূপান্তর করা হচ্ছে। বাগানে স্বল্পমেয়াদি আর শোভাবর্ধনকারী এ দুই শ্রেণীর গাছ লাগানো হয়েছে। ১৫ হেক্টর ভূমিতে স্বল্পমেয়াদি বাগানে আকাশমণি, মেনজিয়াম, মেহগনি, অর্জুন, জাম, কদমজাতীয় গাছপালা এবং সাড়ে সাত হেক্টর ভূমিতে শোভাবর্ধনকারী বাগানে লাগানো হয়েছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, শিমুল, বকুল, জারুল ও সোনালু জাতের চারা। সৃজিত বাগানে বাঁশের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

বন বিভাগের জাফলং বিট অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, জাফলং বন বিটের ভূমি ও বনায়ন রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদসহ জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

বন বিভাগের সারী রেঞ্জের রেঞ্জার মো. সাদ উদ্দিন বলেন, জাফলং বন বিটের ভেতর অবৈধ দখলদার চক্রকে সরিয়ে বনের ভূমি উদ্ধার ও বনায়ন বৃদ্ধিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। বনের ভূমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ অবশিষ্ট ভূমিও উদ্ধার করা হবে।

বনের জমি উদ্ধারে সব ধরনের সহায়তার কথা জানিয়ে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, জাফলং বনভূমির বেদখল হওয়া ভূমি উদ্ধারে এর আগেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জাফলংয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বন বিভাগের সব উদ্যোগে আমরা সহায়তা করব।

উল্লেখ্য, কাগজে কলমে সিলেটে বন বিভাগের মোট জমির পরিমাণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৪ একর। তবে বন বিভাগের হিসাবেই সিলেটে বনের জমির এক-তৃতীয়াংশই বেদখলে রয়েছে। আর স্থানীয়দের হিসাবে, বেদখল হওয়া জমির পরিমাণ আরো বেশি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: