টিকা যেখানেই আবিষ্কার হোক না কেন বাংলাদেশ পাবে : প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্কঃ
বিশ্বের যেখানেই করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হোক না কেন সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সংগ্রহ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পানির মতো টাকা খরচ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সময় তিনি দুর্ঘটনা এড়াতে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় নিয়মনীতি মেনে চলার আহ্বান জানান। সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন যেটা আবিষ্কার হল আমরা তো আশাবাদী হয়েছিলাম অঙফোর্ডেরটা নিয়ে।
সেটা পরীক্ষা করতে গিয়েই যখন অসুস্থ হয়ে পড়ল আমরা আবার একটু দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে গেছি। তারপরও আমাদের প্রচেষ্টা আছে যে, পৃথিবীর যেখানেই আবিষ্কার হোক বাংলাদেশ, আমার দেশের মানুষের জন্য আমরা সেটা সংগ্রহ করতে পারব। সেই বিষয়টায় আমরা যথাযথ সচেতন।
করোনাভাইরাস মহামারী থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্তি দিতে টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করছে বিভিন্ন দেশে। এরমধ্যে বেশি কয়েকটি টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যের অঙফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ কোম্পানি অস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা অন্যতম। এই টিকা চূড়ান্ত হলে তার উৎপাদনে যাবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটও, সে লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
এই টিকা এলে প্রথম দিকেই বাংলাদেশ তা পাবে বলে গত মাসেই ঢাকা সফরে এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তবে এই টিকার চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যে একজন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল স্থগিত রাখা হয়েছে বলে বুধবারই খবর প্রকাশ হয়েছে। এ নিয়ে বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিনের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশ তারা গবেষণা করছে। অনেক দেশের কাছে আমরা শুনছি। সব দেশেই আমাদের আবেদন দিয়ে রেখেছি। তার জন্য টাকাও বরাদ্দ করে রেখেছি। যেখান থেকে আগে পাওয়া যায় আমরা সেটা নেব এবং আমাদের দেশের মানুষকে এই করোনামুক্ত করার জন্য তা ব্যবহার করব। সেই ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি।
প্রবাসী কর্মীদের পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু বসে নেই। যাদের আনার কথা আমরা স্পেশাল প্লেন পাঠিয়েও তাদের নিয়ে এসেছি এবং লাশ কিন্তু সব সময় আনা হয়। আর এখন তো প্লেনে যাতায়াতই বন্ধ। সব দেশেই বন্ধ। কোনো দেশে তো প্লেন ল্যান্ড করতেও দেবে না। কাজেই সেখান থেকে আমরা আনব কী করে? সেটাও তো দেখতে হবে।
বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেশে কারা শুরু করেছিল, সে প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, এটা তো জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই শুরু। আমাদের বহু নেতাকর্মীর লাশও পাওয়া যায়নি। কিছু দিন আগেও আমি পার্লামেন্টে বলেছি। আমরা চেষ্টা করেছি কীভাবে আমরা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করব। কিন্তু পাশাপাশি এটাও আমাদের দেখতে হবে যে, আমাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যথাযথ কাজ করে যাচ্ছে এবং যথেষ্ট তারা সাফল্য অর্জন করেছে এবং তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করছে। কিন্তু সেইগুলো করতে গিয়ে যদি কিছু দুর্ঘটনা ঘটে এটা ঘটাটা খুব অস্বাভাবিক না। আমরা কিন্তু কাউকে ছেড়ে দিচ্ছি না। তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটা বলতে পারবে না কেউ অন্যায় করলে কাউকে আমরা ছেড়ে দিচ্ছি।
সমপ্রতি নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এই কারণে যে, মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এমন একটি জায়গায় যেখানে গ্যাসের লাইন ছিল, সেই লাইনের ওপর এবং তার কোনো অনুমোদন ছিল না, কোনো নীতিমালা ছিল না। আর জায়গাটাও কোনো মসজিদ কমিটির না। এইভাবে অননুমোদিত, অপরিকল্পিতভাবে করার ফলেই আজকে দুর্ঘটনাটা ঘটে এবং কতগুলো জীবন ঝরে গেল। শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি কোনো স্থাপনা করেন অন্তত নিয়ম নীতিমালা মেনে করবেন, যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনায় আর আমাদের পড়তে না হয়।
করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় পানির মতো টাকা খরচ হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছি। করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের লোকজন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী প্রত্যেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, এই করোনা মোকাবিলায় মিলিতভাবে যে প্রচেষ্টা আমরা চালিয়েছি, এজন্যই আমরা মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। আমরা কিন্তু খরচের দিকে তাকাইনি। চিকিৎসাসেবা যাতে দিতে পারি, সেই ব্যবস্থা, যা যা প্রয়োজন আমরা সেটা সংগ্রহ করা এবং দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যেখানে যেখানে হাসপাতাল করা দরকার, চিকিৎসা, কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা, সবই করেছি। সেজন্য পানির মতো টাকা খরচ হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের কাজ করতে গেলে কেউ খুঁটে খুঁটে দুর্নীতি দেখতে পারেন। সামনে মহাদুর্যোগ, সেটা মোকাবিলা করতে গেলে টাকা পয়সা কত যাবে, সেটা বিবেচ্য ছিল না। বিবেচ্য ছিল মানুষকে বাঁচানো। আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি বলেই আজকে আমরা অনেককে রক্ষা করতে পেরেছি, অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এখনও পৃথিবীর অনেক দেশ, উন্নত দেশগুলো হুমকির মুখে। আমরা যদি তুলনা করি, আমাদের দেশে যে ঘনবসতি, যে সংখ্যা, সেখানে এ কাজগুলো করা অনেক কঠিন ছিল, যা উন্নত দেশেও হয় না, সেটা মাথায় রাখতে হবে। প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত আছে।

