আউশ ধানের ভালো ফলন
নিউজ ডেস্কঃ
মীরসরাই উপজেলায় আউশের ভালো ফলন হয়েছে । কিন্তু ধানের ভাল দাম না পাওয়ায় লোকসানের চিন্তায় কৃষক সমাজ। গত বছর কমেছে আবাদ। এবারও আউশ ধানের বাজারে গত রেকর্ড পরিমাণ দরপতনে কৃষকের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা।
ভাদ্রের এই শেষ সময়ে ৭০ শতাংশ আউশ ধান কাটা হয়ে গেছে। আউশ এবার মীরসরাইয়ে প্রাকৃতিক বৈরিতায় মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পূর্বের তুলনা কম চাষ হয়েছে। এরপরও যারা ধান তুলেছে তারা আমন রোপণের খরচ তুলতে ধান নিয়ে যাচ্ছে উপজেলার মিঠাছরা, জোরারগঞ্জ, আবুতোরাব, করেরহাট, বারইয়াহাট সহ বিভিন্ন হাটে।
কিন্তু সেখানে পাইকাররা কেজিতে মাত্র ১০ থেকে ১১ টাকাই দর দিচ্ছে ধানের। মণ প্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ধানের দর দেখে কৃষকদের মাথায় হাত দেবার উপক্রম। বৃহস্প্রতিবার মিঠাছরা ধানের হাটে কাটাছরা থেকে আসা কৃষক বেদারুল ইসলাম ( ৪৮) বলেন- ২ কানি জমিতে আউশের চাষ করে এখন আমনের খরচ যোগাড় করতে হচ্ছে। অথচ গেল বছর আউশ বিক্রি থেকে আমনের খরচ সেরে ৬ মাসের ধান ঘরে মজুদ ছিল। ইতিমধ্যে আমন চাষে নেমে ৫০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে ।
এই দেনা পরিশোধ কি করে হবে বুঝে উঠতে পারছি না। বাজারের জনৈক বেপারী নুরুল ইসলাম বলেন- আমরা চালের আড়তদারদের কাছ থেকে ১২ টাকার উপরে দাম পাচ্ছি না। বহন খরচ থেকে শুরু করে উপযোগী করণ ও সরবরাহ সব খরচে আমাদের ও গড়-পড়তা মিলছে না। এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার কাজী নুরুল আলম জানান- মধ্যস্বত্বভোগীরা ইচ্ছে করেই অনেক সময় দাম কম করে রাখছে। এসব আড়তদার সিন্ডিকেটের কারসাজি হতে পারে। তিনি আরো জানান- এবার আমনের লক্ষমাত্রা ২০ হাজার ৬ শত হেক্টর। ইতিমধ্যে ২০ শতাংশ রোপণ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ আউশ উঠা শেষ হলেই রোপণ হয়ে যাবে।
এভাবে দরপতনের বিষয়ে তিনিও উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে বলেন বর্গাচাষিরা এতে বেশী ক্ষতির সম্মুখিন হবে। জমির মালিককে ধান বুঝিয়ে দিয়ে নিজের খরচের টাকা না উঠলে আমন চাষ করতেই পারবে না। আবার ধানের দামের পরিবর্তন না হলে কৃষক ঋণের বোঝা থেকে মাথা তুলেও দাঁড়াতে পারবে না।
এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রগুনাথ নাহা বলেন আমরা সরকারিভাবে ধানের ক্রয় বৃদ্ধি সহ চাষাবাদে ব্যয় কমানেরা জন্য কৃষকদের নিয়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করবো। আশা করছি কৃষকরাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

