চীন, রাশিয়া ও সৌদি আরব যোগ দিচ্ছে মানবাধিকার কাউন্সিলে
নিউজ ডেস্কঃ
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে চীন, রাশিয়া, কিউবা, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের কাউন্সিলে এসব দেশের যুক্ত হতে যাওয়া নিয়ে ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীরা। জেনেভা ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউএন ওয়াচ এই পরিস্থিতিকে বলেছে, ‘যেন আগুন লাগানোয় সাজা পাওয়া কেউ ফায়ার ব্রিগেডে নিয়োগ পাচ্ছে।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ৪৭ হলেও তিন বছর মেয়াদে এর ১৫টি আসন শুন্য রয়েছে। পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে এসব স্থান পূরণ হবে। নানা গোপন তৎপরতার কারণে এবারে যে একমাত্র আঞ্চলিক গ্রুপটির নির্বাচন হবে সেটি হলো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। এই অঞ্চলের চারটি আসন পেতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে পাঁচটি দেশ।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সৌদি আরব, চীন, নেপাল, পাকিস্তান ও উজবেকিস্তান। নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরে ভোটাভুটিতে যে দেশটি ৯৭টির কম সদস্য দেশের ভোট পাবে কেবল সেই দেশটিই কাউন্সিলে যুক্ত হতে ব্যর্থ হবে।
অন্যদিকে আফ্রিকা অঞ্চলের চারটি আসনের জন্য প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে চারটি দেশ: আইভরি কোস্ট, সেনেগাল, মালাউয়ি এবং গেবন। পূর্ব ইউরোপীয় দুইটি আসনের জন্য রাশিয়ার পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছে ইউক্রেন। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের তিন আসনের জন্য মেক্সিকো, কিউবা ও বলিভিয়ার বাইরে অন্য কোনও প্রার্থী নেই। আর পশ্চিম ইউরোপীয় দুই আসনের জন্য প্রার্থী কেবল ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। ফলে এসব অঞ্চলের জন্য ভোটাভুটির সুযোগ নেই।
মানবাধিকার হরণে অভিযুক্ত দেশগুলো জাতিসংঘের কাউন্সিলে যুক্ত হতে যাওয়ায় জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউএন ওয়াচ। সেখানে সিটিজেন পাওয়ার ইনিশিয়েটিভ ফর চায়নার প্রেসিডেন্ট ইয়াং জিয়ানলি বলেন, ‘হংকংয়ের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ধ্বংসে জড়িত চীন। যে কোনও মানদণ্ডে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাকালীন মূলনীতি চীন ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করেছে। এটা যদি মানবাধিকার হরণকারী কাউন্সিলের নির্বাচন হয় তাহলে চীনকে ভোট দেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত হবে কারণ তারা বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নেতৃত্ব দেবে।’ সাবেক এই রাজবন্দি বলেন, গণতন্ত্রকামী দেশগুলোর দায়িত্ব বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া।
কিউবার মানবাধিকার কর্মী রোসা মারিয়া পায়া দাবি করেন, মানবাধিকার কাউন্সিলের আসনের মাধ্যমে কিউবা নিজেদের দায়মুক্তির সুরক্ষা দেবে। দেশটি কাউন্সিলের কার্যকারিতাকে নষ্ট করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুই বার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত রাশিয়ার ভিন্ন মতালম্বী ভ্লাদিমির কারা-মুরজা জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে হরণকারী দেশগুলোর নির্বাচিত হতে যাওয়া অতি আশ্চর্যের কিছু নয়। এর আগেও লিবিয়া, সুদান আর সাদ্দাম হুসেনের ইরাক এই কাউন্সিলের সদস্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, তারপরও আশ্চর্য হতে হচ্ছে যে রাশিয়া বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে আর ধরে নেওয়া যাচ্ছে যে তারা নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি রুশ বিরোধী দলীয় নেতা আলেক্সাই নাভালনির ওপর বিষপ্রয়োগের ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।

