৭২০ হেক্টর জমিতে হচ্ছে মরিচ চাষ
নিউজ ডেস্কঃ
বর্ষা ও অতিবৃষ্টিতে পাবনার নয়টি উপজেলায় আবাদকৃত মরিচ গাছ মরে যাওয়ার ফলে পণ্যটির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ মসলাজাতীয় এ ফসল কিনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য চলতি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যমাত্রা থেকে উৎপাদন আশা করা হচ্ছে ১ হাজার ১৩৮ টন শুকনা মরিচ।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার নিম্নাঞ্চল বর্ষা ও অতিবৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় মরিচ গাছ মরে গেছে। যে গুটিকয়েক কৃষক গ্রীষ্ম মৌসুমে উঁচু জমিতে মরিচ আবাদ করেছিলেন, তাদের মরিচ বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় এ জোগান কম থাকায় বর্তমানে বাজারে পণ্যটির দাম আকাশছোঁয়া। এ কারণে শীত মৌসুমে জেলার ৭২০ হেক্টর জমিতে আবাদের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা। এক মাসের মধ্যে ফসল পাওয়া যাবে বলে আশা তাদের।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল আলম জানান, শীত মৌসুমে পাবনা জেলার নয়টি উপজেলায় ৭২০ হেক্টর জমি মরিচ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে, যেখান থেকে উৎপাদন হবে ১ হাজার ১৩৮ টন শুকনা মরিচ। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য পাবনা সদর উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমি মরিচ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এ থেকে উৎপাদন হবে ২৬৯ টন শুকনা মরিচ।
এছাড়া আটঘড়িয়া উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমি মরিচ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে, যা থেকে উৎপাদন হবে ১২৬ টন শুকনা মরিচ; ঈশ্বরদী উপজেলার ২০০ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদন হবে ৩১৬ টন, চাটমোহর উপজেলার ৭০ হেক্টর থেকে উৎপাদন হবে ১১১ টন, ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাঁচ হেক্টর থেকে উৎপাদন হবে আট টন, ফরিদপুর উপজেলার ১০ হেক্টর থেকে উৎপাদন হবে ১৬ টন, বেড়া উপজেলার ৫০ হেক্টর থেকে উৎপাদন হবে ৭৯ টন, সাঁথিয়া উপজেলার ৫৫ হেক্টর থেকে উৎপাদন হবে ৮৭ টন এবং সুজানগর উপজেলার ৮০ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদন হবে ১২৬ টন শুকনা মরিচ।

