পীরগঞ্জের খালাশপীর কয়লার খনি অনুমোদন মিললেই উত্তোলন কার্যক্রম শুরু

সনজিৎ কুমার মহন্ত:

রংপরের পীরগঞ্জ উজেলার খালাশপীরের মাগুড়ায় আবিস্কৃত এশিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ কয়লা খনিটির কয়লা উত্তোলন দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পীরগঞ্জবাসী। কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি ঝুলে থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে হতাশ দেখা দিয়েছে। এ খনিটি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে কয়েক হাজার বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কয়লা চালিত ২৫০ মেঃ ওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পুরনে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে। পীরগঞ্জের বিশিষ্ট জনদের প্রত্যাশা পীরগঞ্জের পুত্রবধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপজেলার অবহেলিত বিশাল জনগোষ্ঠির উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত এ কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু করবেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও এ খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কাজ এ শুরু না হওয়ায় পীরগঞ্জবাসী হতাশ হয়ে পড়েছে। খনি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে খনির সিরামিক সার্ভের কাজ শেষ করে ২০০৬ সালের আগস্টে সংশ্লিষ্ঠ বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গত বছর কয়লা নীতি চূড়ান্ত করণের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি খালাশপীরসহ উত্তরাঞ্চল খনিগুলো সরেজমিন তদন্ত করে গেছেন। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই সরকারের অনুমোদন মিললেই খালাশপীর তথা উত্তরাঞ্চলের কয়লা ক্ষেত্রগুলো উত্তলোনের কার্যক্রম শুরু হবার কথা। খালাশপীর কয়লা খনির সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা সদরের ১২ কিঃ মিঃ পশ্চিমে মদনখালী ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ভূÑতাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) পরীক্ষা নিরীক্ষার পর খালাশপীর খনির অবস্থান নির্ণয় করে। এর ৩০ বছর পর ১৯৮৯-১৯৯০ সালে জিএসবি ২৫ বর্গ কিঃ মিঃ খনি এলাকায় প্রাথমিকভাবে ৪ টি কূপ খনন করে ৩ টিতে ২৮০ মিটার থেকে ৪৮০ মিটার গভীরতায় উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান লাভ করে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে খনি ট্রপোগ্রাফিক্যাল সার্ভের কাজের জন্য কনসোর্টিয়াম অফ হোসাফ ইন্টারন্যাশনাল ও সেনউইন মাইনিং গ্রুপ সরকারের কাছে আবেদন করে। একটি চিনা প্রতিষ্ঠান খনিজ জরিপের প্রাথমিক কাজ দ্বি-মাত্রিক ও ত্রি-মাত্রিক (২/ডি ও ৩/ডি) সিসমিক সার্ভের জন্য২০/২৫ ফিট বোরিং করে শুড়ঙ্গ পথে খনিতে সারে ৭ হাজার বোমা বিষ্ফোরণ করে। পাশাপাশি কয়লার গভিরতা, পূরুত্ব, মজুদ, স্তর জানতে আরো ৭ টি কূপ খনন করা হয়। অপরদিকে ভারতের জিওটেক কোম্পানি ৮ টি ক’প খনন করে সবগুলোর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে সমীক্ষা প্রতিবেদন (ফেসিবিলিটি রিপোর্ট) গত ২০০৬ সালের আগস্টে সরকারের কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দিয়ে মাইনিংলিজের আবেদন করে, যা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় আর মাইনিংলিজ প্রদান করা হলে ৫/৬ কছরের মধ্যে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানায় ২৫ বর্গ কিঃ মিঃ আয়তনের ৮ স্তর বিশিস্ট খালাশপীর কয়লা খনিতে সম্ভাব্য কয়লা মজুদের পরিমান ৬৮৫ মিলিয়ন টন। যা বাংলাদেশের ২শ বছরের কয়লার জানা যায় চাহিদা মেটানো সম্ভব। সমীক্ষার পর ২.৫২ কিঃ মিঃ এলাকায় ৮ স্তর বিশিষ্ট খনিতে ১৪৩ মিলিয়ন টন প্রমানিত মজুদ কয়লা রয়েছে বলে জানা গেছে। এখানে উন্নত মানের বিটুমিনাস নামের উচ্চ জ্বালানি ক্ষমতা স¤পন্ন কয়লা রয়েছে। প্রতি পাউন্ড কয়লার জ্বালানি ক্ষমতা ১০ হাজার ৫ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (বিটিইউ)। এতে ক্ষতিকর সালফারের উপস্থিতি মাত্র ১ ভাগেরও কম। খনির ১ স্তর ধাতু গলানোর কাজে ব্যবহৃত কোকিংকোল ও চুনা পাথর এবং কাঁচ বালি রয়েছে। যা সাধারনত অনেক খনিতে পাওযা যায়না। সিসমিক সার্ভের মাধ্যমে উপরোক্ত তথ্যাবলি সংগ্রহের পর সমীক্ষা প্রতিবেদন ফেসিবিলিটি রিপোট জমা দিয়ে পরবর্তী কাজ মাইনিংলিজের আবেদন করা হয়। অনুমোদন পেলেও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ন্যায় এই খনি থেকে ২ টি কুপ দ্বারা ভূ-গর্ভ হতে কয়লা উত্তোলন হবে। এতে উপরে অবস্থিত জনবসতি ও পরিবেমের কোন ক্ষতির আশংকা নেই। ওই কুপ কনন সহ বিভিন্ন স্থাপনার জন্য ৬০/৭০ একর জমির প্রয়োজন পরবে। এ পদ্ধতিতে প্রমানিত মজুদ কয়লার ৪০ ভাগ উত্তোলন করলে প্রতি বছর ২ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা যাব্।ে এভাবে ৩০/৩৫ বছর পর্যন্ত এই খনিটি চলবে। আর ৪/৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক ৩/৪ শত মেগওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। গত ২১,২২ সেপ্টেম্বর/০৭ তারিখে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গঠিত কয়লা নীতি চূড়ান্ত করনের লক্ষ্যে পরামর্শ কমিটির উত্তরাঞ্চলের কয়লা কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। ঐ কমিটি খনি এলাকার পরিবেশ জনবসতি অবস্থান ইত্যাদি তদন্ত করেন। তাদের রিপোর্টের উপরই নির্ভর করছে এ অনঞ্চলের কয়লা খনিগুলোর ভাগ্য। বড়পুকুরিয়ার চেয়ে খালাশপীর কয়লা খনির অবস্থা অনেক ভাল। এমন মন্তব্য করেছেন ওই কমিটির প্রধান বুয়েটের সাবেক উপাচার্য মতিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, কাজ শুরু হলে অনেক বেকার যুবকদের ওই এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য গত বছরের ২৭ শে ফেব্রুয়ারী বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রনালয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি খালাশপীরের কয়লা খনি পরিদর্শন শেষে বলেছেন পীরগঞ্জের মানুষ যদি চায় তাহলে কয়লা খনির কাজ শুরু হবে। এখানকার মানুষ লাভবান হবে। কারন বিদ্যুৎ এর চাহিদা পুরন করে বিক্রি করাও যাবে। তাই খুব শীঘ্রই কয়লা খনি উত্তোলন করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা উপজেলা বাসীর।

  •  
  •  
  •  
  •