নওগাঁয় বরেন্দ্রভূমির পতিত জমিতে পাতকুয়ার মাধ্যমে সেচে সাফল্য
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত নওগাঁর পত্নীতলায় পাতকুয়ার মাধ্যমে পতিত জমিতে সবজি চাষ শুরু হয়েছে।এতে অনেকের ভাগ্য খুলে গিয়েছে, পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে।ঠাঁ-ঠাঁ বরেন্দ্রভূমি পত্নীতলা, পোরশা ও সাপাহারে পাতকুয়া খনন ও সোলার পাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।বর্ষা মৌসুমে আমন ধান আবাদ করার পর খরা মৌসুমের ৭/৮ মাস পানির অভাবে জেলার পত্নীতলা, পোরশা ও সাপাহার উপজেলায় হাজার হাজার একর জমি পতিত থাকে।এ অবস্থায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ জরিপ ও অনুসন্ধান পরিচালনা করে।নলকূপের মাধ্যমে পানি তোলা সম্ভব না হওয়ায় বছর দু’য়েক আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাতকুয়া খননের প্রস্তাবনা পাঠায়। গত বছর অনুমোদন এলে জুন মাসে পত্নীতলায় ৪০টি পাতকুয়া খনন করা হয়।প্রাথমিকভাবে খনন করা এসব পাতকুয়া থেকে বালতি দিয়ে পানি তোলা হতো।সে পানি স্থানীয় বাসিন্দারা আসবাবপত্র ও বাড়ির অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার পাশাপাশি পতিত জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। সবজির আবাদ ভালো হওয়ায় পাতকুয়ার সুফল পেতে শুরু
করেন এলাকাবাসী।পানি বালতি দিয়ে তুলে সবজি চাষ কষ্টকর হওয়ায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পাতকুয়ায় সোলার পাম্প বসিয়ে সেখান থেকে পানি উত্তোলন কার্যক্রম হাতে নেয়।এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলায় চকশহবত মৌজায় একটি অন্যটি শিহারা গ্রামে পাতকুয়ায় সোলার বিদ্যুতচালিত পাম্প স্থাপন করা হয়।পাম্পের মাধ্যমে সেখান থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে,জেলায় সেচের অভাবে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকে। এর মধ্যে পত্নীতলায় ৫ হাজার, পোরশায় ১০ হাজার, সাপাহারে ৫ হাজার হেক্টর জমি।পাতকুয়ার উপর স্থাপিত সোলার প্যানেলের ক্ষমতা ৯০০ ওয়াট এবং পাম্পের ক্ষমতা ৫০০ ওয়াট।পাতকুয়ার আশপাশের পতিত জমিতে শাক-সবজি আবাদের জন্য বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এক ইঞ্চি ইউপিভিসি পাইপের মাধ্যমে ১৮০০ ফুট ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণ করেছে।সেচের জন্য ২১টি ট্যাপ স্থাপন করা হয়েছে।প্রতিটি পাতকুয়া খনন করতে গভীরতা অনুযায়ী দেড় থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।দুটি সোলার পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে।অন্যান্য পাতকুয়ার মাধ্যমে আরো ৬০ থেকে ৭০ বিঘা সবিজ চাষ করা হচ্ছে।উপকারভোগীরা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পাতকুয়া আমাদের কাছে স্বপ্ন বলে মনে হয়।যেখানে পানি সংকটে বাড়ির কাজকর্ম ছিল না, ফসল হচ্ছিল না সেখানে বিনা পয়সায় পানি পাচ্ছি।এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবিজ আবাদ হয়েছে।অন্য কৃষকরা আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করা শুরু করেছেন।কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, এ পাতকুয়ার পানি পাইপলাইনে জমিতে আসায় এবার ১ বিঘা ৫ কাঠা জমিতে ঢেঁড়স, পুঁইশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক ও বেগুনের চাষ করেছি। নিরঞ্জন চন্দ্র জানান, এ পাতকুয়া ও সোলার পাম্প আমাদের মতো গরিব কৃষকের জন্য বিধাতার আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।তিনি তার ১০ কাঠা জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন এই পানি দিয়ে।পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান মণ্ডল বলেন,খরাপ্রবণ এ এলাকায় আরও ৫০/৬০টি,পাতকুয়া খনন করে সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করার দরকার রয়েছে।এলাকার এক ফসলি জমি শাক-সবিজ চাষাবাদের মাধ্যমে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক শিব্বির আহম্মেদ জানান, এ পাতকুয়ার মাধ্যমে জমিতে সেচের পানি কম লাগে এমন শাক-সবজি চাষ করা হয়েছে।বরেন্দ্র এলাকায় পত্নীতলার দিবর,পোরশার বাদকহেন্দা মৌজা এবং লেলেংগাহার এলাকায় পাতকুয়ায় সোলার সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নওগাঁর পত্নীতলা রিজিয়নের সহকারী প্রকৌশলী আল-মামুনুর রশীদ জানান,আগামীতে পত্নীতলা, পোরশা ও সাপাহারে আরো পাতকুয়া খনন ও সোলার পাম্প স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

