দক্ষিনাঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে ‘আইএপিপি’

মো. মুস্তাফিজুর রহমান পাপ্পু, বিশেষ প্রতিবেদক:
কখন কখন একজন মানুষের ব্যাক্তিগত সফলতা দেশকে সন্মানের স্বর্ন শিখরে নিয়ে যায়। মিডিয়ায় বেশ ফলাও করে প্রচার হয় তার সফলতার কাহিনি, ম্যাগাজিন গুলো তাকে নিয়ে তৈরি করে কভারস্টোরী। যাদের সফলতার গল্পে দেশ আজ খদ্যে সয়ং সম্পুর্ন তাদের কথা তেমন ভাবে মিডিয়ায় আসে না। তেমনি হাজার সফলতার গল্পের পান্ডুলিপিতে ভরপুর আইএপিপি (ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টিভিটি প্রজেক্ট) প্রকল্প। সমন্বিত ভাবে কৃষির উন্নয়নে যার অবদান অসামান্য।

বরিশাল উজির পুর উপজেলার মাকসুদা, অর্থাভাবে এনজিওর ঋনের চাপে যখন সর্বস্ব হারাতে বসেছিলেন। সার ওষুধ কেনার টাকা না থাকায় চাষাবাদ করতে পারেননি কেন ফসল। কৃষি নির্ভর মাকসুদার এই পরিবারটি যখন পথে বসার উপক্রম হয়েছিল তখন আইএপিপি প্রকল্পের এলএফএস দলের সদস্য হয়ে প্রশিক্ষন পান আধুনিক চাষাবাদ কলা কৌশলের। প্রশিক্ষন নিয়ে একটি ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী পাল্টে দেয় তার ভাগ্য। আইএ পিপি প্রকল্পের সহায়তায় পরবর্তিতে তিনি গড়ে তোলেন ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্ট, যার মাধ্যমে নিজের চাষাবাদের প্রয়োয়জন মিটিয়ে বাজারে ভার্মি কম্পোস্ট সার বিক্রি করে হয়েছেন সাবলম্বি।

বাবুগঞ্জ উপজেলর দেওয়ান মোড়ল, হিজলা উপজেলার জিয়াউল হক আইএপিপির এলএফএস দলের সদস্য হয়ে আধুনিক চাষাবাদ কৌশল শিখে প্রকল্প হতে প্রাপ্ত উন্নত বারি গম ২৬ চাষাবাদে পাল্টে দিয়েছেন নিজের ভবিষ্যৎ। হিজলা উপজেলার নাসির বেপারী আইএপিপি প্রকল্পের এলএফএস দলকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করে নিজেদের জমানো অর্থে নিজেরাই হয়েছেন আত্বনির্ভর শীল। আইএ পিপি প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত যাতের বিভিন্ন ফসল এর চাষআবাদ ও প্রশিক্ষন বদলে দিয়েছে এমনি হাজার কৃষকের ভাগ্য। বিশেষ করে উন্নত জাতের গম শরিষা ও ভুট্টা ব্যাপক ভাবে চাষাবাদ করে সফল হয়েছেন অনেক কৃষক। যাদের সফলতার গল্পে পাল্টে গ্যাছে দখিনের কৃষির চিত্র।
এই সফলতার গল্পের শুরু হয় ২০১২ সালের দিকে, যানা যায় কৃষিমন্ত্রনালয়ের আওতায় জিএএফএসপি ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ভিন্ন আঙ্গিকে রংপুর ও বরিশালে ৮ টি জেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়।

Agr46
কৃষকদের নিয়ে দল গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের সাবলম্বি ও আত্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হয়। মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটরগন প্রকল্পের কমিউনিটি মবিলাইজেশন ইউনিটের মাধ্যমে জেলা সমন্বয় কারীর নির্দেশনায় ও নিজেদের সততা ও কঠোর পরিশ্রমে নিজেদের দ্বায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছেন। বরিশালে ১০ উপজেলার সব ইউনিয়নে প্রায় দের হাজর কৃষক গ্রপের অর্ধলক্ষাধিক কৃষক এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের ছোয়ায় পল্টে দিয়েছেন মঠের চিত্র।

এ বিষয়ে কথা হয় প্রকল্পের বরিশালের জেলা সমন্বয় কারী মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত এর সঙ্গে তিনি জানান আইএপিপি একটি ভিন্ন ধারার প্রকল্প যে প্রকল্প কৃষকদের সহায়তা নির্ভর না হয়ে আত্বনির্ভর ও দক্ষ হতে শেখায়। মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং এবং প্রশিক্ষনের মাধমে কৃষকদের ব্যাপক ভাবে আত্বনির্ভর শীল হতে ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করেছে। বিগত বছরগুলোতে আইএপিপির আওতায় আসা চাষিগন উন্নত প্রযুক্তি ও জাতের ব্যাবহারে ক্রমান্বয়ে চাষাবাদে সফলতা পাচ্ছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: