অবশেষে রাবির ঐ ৫১ শিক্ষার্থীর কর্মসূচি প্রত্যাহার
আসাদুজ্জামান রিফাত, রাবি প্রতিনিধি:
৪৮ ঘণ্টার টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করার পর অবশেষে কর্মসুচি প্রত্যাহার করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ৫১ জন শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার বিভাগের একাডেমিক কমিটি তাদের সিদ্ধান্তে অনঢ় অবস্থানের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় নিয়ম অনুযায়ী ওইসব শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের দাবিতে গত রোববার বেলা ১১টা থেকে বিভাগের সামনে ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচি শুরু করেন ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সভাপতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ছিলেন। বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী যাদের ৬০ শতাংশের নিচে ক্লাসে উপস্থিতি আছে তাঁরাও এ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এরই মধ্যে গত সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছাড়াই প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার একাডেমিক কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় একাডেমিক সভা বিভাগের শিক্ষকেরা শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরপর কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।
আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ জানান, ‘শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পক্ষের দাবির বিষয়টি নিয়ে বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে একাডেমিক কমিটির প্রায় সব সদস্য নিয়ম অমান্য করে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার পক্ষে মত দেন।’ তিনি বলেন, সভা শেষে শিক্ষকেরা আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় শিক্ষকেরা তাদের বুঝিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসতে বললে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে।
এদিকে দ্বিতীয় বর্ষের ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫ জন ডিসকলিজিয়েট হওয়ায় ফরম পূরণের সুযোগ পায় নি। তারাও এই অনশনে যোগ দিয়েছিলো। ওই বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে মঙ্গলবার জানান বিভাগের সভাপতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। বিশেষ কারণে তা সম্ভব না হলে জরিমানা সাপেক্ষে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সে ক্ষেত্রেও ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর আগে ৬০ শতাংশের নিচে ক্লাসে উপস্থিত থেকেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার হঠাৎ করে তাদের এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

