গুরুদাসপুরে মাটি খুঁড়ে ৫৫৫টি প্রাচীন ধাতব মুদ্রা উদ্ধার

ইসাহাক আলী, নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরে বাড়ি তৈরীর জন্য মাটি খননকালে প্রাচীন আমলের ৫৫৫টি ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের দাবী উদ্ধার হওয়া ধাতব মুদ্রাগুলো ১৮১৮ সাল থেকে সমসাময়িক সময়ের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলার মসিন্দা ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের শাহ আলম তার জমিতে বাড়ি তৈরীর জন্য শ্রমিকদের দিয়ে মাটি খুঁড়ছিলেন। মাটি খোঁড়ার এক পর্যায়ে একটি মাটির হাঁড়ি দেখতে পান শ্রমিকরা। পরে হাঁড়িটি উত্তোলন করার পর তার ভিতর বেশ কিছু ধাতব মুদ্রা দেখতে পায় তারা। ঘটনাটি দ্রুত এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই হাঁড়িটি উদ্ধার করে কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে হাড়িটির ভিতর থেকে ৫৫৫টি ধাতব মুদ্রা গননা করা হয়।

এ বিষয়ে বাড়ির মালিক শাহ আলম জানান, নিজের জমিতে ঘর তৈরীর জন্য শ্রমিকদের দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছিল। খননের সময় কোঁদালের আঘাতে মাটির হাঁড়িটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে ধাতব মুদ্রাগুলো পরিষ্কার করা হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে তা জব্দ করে নিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, কারো অজান্তে পূর্ব পুরুষের কেউ হয়তো এই ধাতব মুদ্রাগুলো সংগ্রহ করে হাঁড়িতে মাটির নিচে পুতে রেখে ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, সংবাদ পাওয়ার পর রাতেই পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মাটির হাঁড়িসহ ৫৫৫টি ধাতব মুদ্রাগুলো উদ্ধার করে কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে মুদ্রাগুলো সীলগালা করে প্রতœতত্ব বিভাগকে জানানো হয়েছে। প্রতœতত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে বলা যাবে আসলে মুদ্রাগুলো কত সালের এবং কি দিয়ে তৈরী।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন জানান, ১৮১৮ সাল থেকে সমসাময়িক সময়ের মুদ্রা। মুদ্রাগুলো তামা এবং দস্তার তৈরী। দীর্ঘ দিন ধরে মাটির নিচে থাকায় কতগুলোর গায়ে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার যে গুলো ভালো রয়েছে সেগুলোর গায়ে ১৯৪৩ সালের ফোর্থ রুপী, ১৯১৯ সালের এক আনা লেখা রয়েছে। ধাতব মুদ্রাগুলোর গায়ে লেখা দেখে অনুমান করা যাচ্ছে ১৮১৮সাল থেকে সমসাময়িক সময়ে মুদ্রাগুলো কেউ সংগ্রহ করে রেখে গেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •