আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস (World Milk Day)

জয়তু কুমার মন্ডলঃ

দুধ (MilK) কে বলা হয় আদর্শ খাবার। এটি আমাদের সুষম এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েটে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।বিগত কয়েক দশকে দেশে দুধের চাহিদা এবং উৎপাদন বেড়েছে।

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস (World Milk Day)

প্রতি বছর ১ জুন সারাবিশ্ব ব্যাপী বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হয়। সবাই কে খাদ্য হিসেবে দুধের উপকারীতা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানান দিতে ২০০১ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি (FAO) সংস্থা এই দিনটি চালু করে।

দিনটিতে বিশ্বব্যাপী সকলের মাঝে মানবদেহে দুধের উপকারীতা,প্রয়োজনীয়তার সক্রিয় প্রচারণা চালানো হয় সকলকে দুধ পানে আগ্রহী করে তুলতে,এবং সেই সাথে দুগ্ধ-শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ১০ মিলিয়ন এরও বেশি মানুষের জীবন যাত্রাকে সমর্থন করা হয়।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২১-র প্রতিপাদ্য (World Milk Day 2021: Theme)

এইবছর বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের থিম ‘সাসটেইনেবিলিটি ইন দ্য ডেইরী সেক্টর অ্যালং উইথ এমপাওয়ারিং দ্য এনভায়রনমেন্ট, নিউট্রেশন অ্যান্ড সোসিও ইকোনোমিক’। যার অর্থ- পরিবেশ, পুষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দুগ্ধ খাতে টেকসই হওয়া। দুগ্ধের স্বল্প-কার্বন ভবিষ্যত তৈরিতে সহায়তা করে বিশ্বের কাছে দুগ্ধ খামারকে নতুন করে পরিচয় করানোও লক্ষ্যও রয়েছে এই বছর।

দুধ কেন আদর্শ খাবার?

যেকোনো বিষয়ে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন নমুনাটিই হয় আদর্শ।মানবদেহের প্রয়োজনীয় খাদ্য তালিকার যে ছয়টি উপাদান রয়েছে ১.শর্করা ২.আমিষ ৩.স্নেহ ৪.ভিটামিন ৫.মিনারেল এবং ৬.পানি দুধ হলো এই ছয়টি উপাদানের একটি অসাধারণ মিশ্রণ। অন্য কোন খাবারেই এত সুন্দরভাবে সবকয়টি উপাদান একসাথে পাওয়া যায় না এজন্যই দুধ কে আদর্শ খাবার বলা হয়ে থাকে।

দুধের উপকারীতা সমূহঃ

১.শরীরে হাড় ও দাঁত গঠনে এবং তার পরিচর্যায় দুধের অবদান অনিস্বীকার্য।
২.দুধ মস্তিস্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।সেরোটোনিন (Serotonin) এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা ব্রেন ক্যেমিক্যাল এবং হ্যাপী হরমোন নামে পরিচিত।
৩.নিয়মিত দুধ পান স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় এবং হৃদপিন্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে।
৪.দুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity)বাড়ায়।
৫.দুধ দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।
৬.মাংসপেশি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭.নিবিড় ভাবে চুল ও ত্বকের যত্ন নেয়।
৮.পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে এবং হজমে সহায়তা করে।
৯.রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও দুধের ভুমিকা রয়েছে।
১০.সর্বোপরি বডি ফিটনেস ধরে রাখে এবং তা সুস্থ রাখে।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস এবং বাংলাদেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন মানুষকে গড়ে দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করতে হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ না, মাথাপিছু ২৫০ মিলিলিটার এর পরিবর্তে আমাদের উৎপাদন ১৭৫ মিলিলিটার অর্থাৎ এখনো ৭৫ মিলিলিটার কমতি রয়েছে। তবে সুখকর সংবাদ এই যে গত দশ বছর আগেও বাংলাদেশে দুধের অবস্থান এমন ছিলনা,গত দশকে দুধের উৎপাদন বেড়েছে চার গুন।এটিকে আরোও বাড়িয়ে নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে দেশের প্রাণিসম্পদ সেক্টর।

এখন দুধ কে শুধু দুধ হিসেবেই খাওয়া হয়না বাংলাদশে,দুধ শিল্পের ও বিকাশ ঘটছে ধীরেধীরে,প্যাকেটজাত পাস্তুরাইজড দুধ, ফ্লেভার্ড মিল্ক, দুগ্ধজাত বিভিন্ন পন্য যেমন আইস্ক্রিম,চিজ,বাটার,পনির,ঘি ইত্যাদির চাহিদা বেড়েছে দেশে, এতে করে দুগ্ধ শিল্পের প্রসার ঘটছে ফলস্বরূপ সমান্তরালে বাড়ছে কর্মসংস্থান এবং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এ বছর দেশব্যাপী দিবসটি উদযাপন করছে। এর অংশ হিসেবে ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত দুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপন করা হবে। দিবসটির উদ্বোধন করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

  •  
  •  
  •  
  •