মহাকাশে ইঁদুরের শুক্রানু ৬ বছর সংরক্ষণের পর তা থেকে সুস্থ ইঁদুর ছানার জন্ম!
হালিমা তুজ সাদিয়াঃ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীর বাহিরে অবস্থিত একটি বৃহৎ মহাকাশযান। এটি প্রায় ২৫০ মাইল দৈর্ঘ্যের গড় উচ্চতায় পৃথিবীকে প্রতিদিন ১৫.৭ বার প্রদক্ষিণ করে।
এই মহাকাশ স্টেশনটি একটি বড় গবেষনাগার। মহাকাশ সম্পর্কিত যে কাজগুলো পৃথিবীতে করা সম্ভব হয়না সেগুলো মহাকাশ স্টেশনে করা হয়। এটি মহাকাশের তথ্যসরবরাহেও সাহায্য করে।
বিজ্ঞানীরা মহাকাশে শুক্রাণু নিয়ে সবচেয়ে বড় গবেষণার কাজ শুরু করেন ২০১৩ সালে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর শুক্রাণুতে মহাকাশের বিকিরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য এই গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন জাপানের ইউনিভার্সিটি অব ইয়ামানাশি’র গবেষকরা।
পৃথিবী থেকে ইঁদুরের হিমায়িত-শুষ্ক শুক্রাণু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পাঠিয়ে সেখানে তা সংরক্ষণ করা হয়। গবেষকরা প্রথমে পুরুষ ইঁদুর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করেন। এরপর তা ইনজেকশনের ছোট্ট শিশিতে তোলা হয়। পরবর্তীতে হিমায়িত ও শুষ্ক করার জন্য শুক্রাণু থেকে পানি অপসারণ করে ফেলা হয়। এরপর এসব হিমায়িত-শুষ্ক শুক্রাণু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পাঠিয়ে সেখানে ৬ বছর সংরক্ষণ করা হয়, একইসঙ্গে পৃথিবীর গবেষণাগারেও সংরক্ষণ করা হয়।
হিমায়িত-শুষ্ক শুক্রাণুগুলো প্রায় ৬ বছর পর ২০১৯ সালে স্পেসএক্সের একটি কার্গো ক্যাপসুলে করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং এসব শুক্রাণুর মাধ্যমে ১৬৮ টি স্বাস্থ্যবান ইঁদুর ছানার জন্ম নিতে দেখা যায়। বেশ কয়েক বছর ধরে মহাশূন্যে সংরক্ষিত থাকার পরও শুক্রাণুগুলো কার্যকর ছিল।
মহাকাশে রাখা শুক্রাণু নিয়ে এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য শনিবার (১১ জুন, ২০২১) “সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে” প্রকাশ করা হয়েছে।
মহাশূন্যে সংরক্ষণ করা শুক্রাণু এবং পৃথিবীতে সংরক্ষণ করা শুক্রাণু রিহাইড্রেড করে আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষিক্ত করে নারী ইঁদুরের গর্ভধারণ করানো হয়। প্রজননের পর মহাকাশ ফেরত শুক্রাণু থেকে জন্ম নেওয়া ইঁদুর ছানাগুলোর সঙ্গে পৃথিবীতে সংরক্ষিত শুক্রাণু থেকে জন্ম নেওয়া ইঁদুর ছানাগুলো তুলনা করা হয়। গবেষণাপত্রে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, “উভয় স্থানের শুক্রাণু থেকে জন্ম নেওয়া ইঁদুর ছানাগুলোর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি এবং কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতাও ছিল না।”
মহাশূন্যে অবস্থিত প্রায় সব কিছুতেই মহাজাগতিক বিকিরণ হানা দেয়। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে মহাজাগতিক বিকিরণ ডিএনএ’র উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে ডিএনএ’র ভাঙন এবং পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু গবেষকরা মহাশূন্যে সংরক্ষিত শুক্রাণুর ডিএনএ’র ক্ষতিগ্রস্ততা দেখতে পাননি, যা একটি বিশাল সাফল্য। এই সাফল্যের স্পর্শে মহাকাশ গবেষণা এক ধাপ এগিয়ে গেলো।
বিজ্ঞানীরা মানব শুক্রাণু নিয়েও পরীক্ষা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি সাফল্য আসে তবে মানবসতি স্থাপনের সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
তথ্যসূত্রঃ সি এন ই টি

