যেসব কারণে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
নিউজ ডেস্কঃ স্বাস্থ্যবিধি না মানা, আক্রান্তদের কোয়ারেন্টিনে বা আইসোলেশনে না নেওয়া এবং ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অতিমাত্রার সংক্রমণ প্রবণতার কারণেই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে। এর ফলে প্রথমে সীমান্তবর্তী জেলা এবং পরে সেসব জেলা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে পাশের জেলাগুলাতেও।
পরে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনার সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে শিথিলতার পরিচয় দিলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এসব কারণে জুন মাস স্বস্তির যাবে না।
কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আরসালান বলেন, ‘গত ঈদের সময় মানুষের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানুষের স্রোত থামিয়ে রাখা যায়নি; বরং সে সময় মানুষ ভেঙে ভেঙে, গাদাগাদি করে বাড়ি গিয়েছে। এতে করে সংক্রমণ আরও বেড়েছে।’
জাতীয় কমিটির আরেক সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, সংক্রমণ রুখতে বেশি বেশি টেস্টের কোনও বিকল্প নেই। টেস্ট করে যিনি পজিটিভ হবেন তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যেতে হবে, যে পরিবারের সদস্য তিনি সে পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে নিতে হবে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাম-উপজেলা-জেলা-রাজধানী কোথাও আইসোলেশন-কোয়ারেন্টিন হচ্ছে না। এ কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।’
হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত ঈদের সময় ট্রাকে, ফেরিতে, ভ্যানে, মাইক্রোবাসে, রাস্তায় মানুষের ঢল দেখেছিলাম। তাতে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। এবারেও সে অবস্থার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রবণতা থামানো না গেলে সংক্রমণ আরও বাড়বে।’
উল্লেখ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ সাপ্তাহিক (২১ থেকে ২৭ জুন) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫২ জেলা অতিউচ্চ ঝুঁকিতে আছে।

