পথ বদলাচ্ছে করোনা ভাইরাস

এস এম আবু সামা আল ফারুকীঃ

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে কোভিড-১৯ এর জন্য দ্বায়ী সারস-কোভ-২ করোনা ভাইরাস দেহে প্রবেশের জন্য ভিন্ন পথ ব্যবহার করছে। করোনা মহামারী শুরুর দিকে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেন যে দেহের কোষে এসিই-২ নামের যে গ্রাহক বা সংযুক্ত প্রান্ত আছে সেখানে করোনা ভাইরাস যুক্ত হয়ে রোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু বার বার মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে অন্য পথে হাটছে এই ভাইরাস।

এই আবিষ্কার করোনা প্রতিরোধের জন্য আবিষ্কৃত ভ্যাক্সিনের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। কারণ সব ধরণের ভ্যাক্সিন এসিই-২ রিসেপ্টর কে টার্গেট করে তৈরি হয়েছে। ফলে ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তবে এ ধরণের কোনো প্রমাণ এখনও মিলেনি।

গবেষক দলের অনুজীববিজ্ঞানী ড. সেবলা কাতলুয়ে ও ড. মি. বেন মেজরের এক গবেষনায় তারা ফুসফুসের কোষ নিয়ে গবেষণা করেন যেখানে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা কিডনির কোষের উপর গবেষণা চালায়। মেজর বলেন, ” যে কোষটিকে আমি নেগেটিভ রেজাল্টের জন্য চিহ্নিত করে রাখি শুধুমাত্র সেটিই পজেটিভ রেজাল্ট দেয়। এটি ছিল ফুসফুসের একটি ক্যান্সার কোষ যাতে কোনো এসিই-২ রিসেপ্টর ছিলই না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর ছিল।”

যে ভাইরাসটি নিয়ে তারা গবেষণা করেন তা ওয়াশিংটনের একজন করোনা রোগীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের ধারনা ল্যাবরেটরিতে সেটি সংরক্ষণের সময় ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনের ৪৫৪ তম পজিশনের একটি প্রোটিনে এই পরিবর্তন হয়। ভাইরাসের এই অবস্থানটি মিউটেশনের জন্য হটস্পটের মত।
ভাইরাসের এই অবস্থানে পরিবর্তন হয়েই আলফা ও বিটা ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব হয়েছে তবে তার সাথে ল্যাবের এই পরিবর্তনের কোনো মিল নেই।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের ধারণা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কোভিড-১৯ বার বার নিজেকে পরিবর্তন করছে। যদি এটি অন্য কোনো রিসেপ্টর দিয়ে শরীরকে আক্রমণ করতে সক্ষম হয় তবে তা মানবজাতির জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সুত্রঃ সেল রিপোর্ট

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: , ,