তানোরে ঠিকাদার ও অটোচালকের মধ্যে দফায় দফায় হামলা

তানোর (রাজশাহী ) সংবাদদাতা :
রাজশাহীর তানোর শিবনদীর উপর নির্মিত ব্রীজের সংযোগ সড়ক তৈরির সময় অটোচালক ও ঠিকাদারের মধ্যে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় অটোচালকের মা, বোন ও স্ত্রীসহ পিতা ব্যাপক মারপিটের শিকার হন। পরে অটোচালকের লোকজন ঠিকাদারের উপর হামলার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তার ড্রামট্রাকের দু’জন ড্রাইভারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারপিট করে তিনটি ড্রামট্রাক ভাংচুর করে। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এঘটনা নিয়ে শনিবার দুপুরে তানোর উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে শালিস বৈঠক বসে সাড়ে ১২ হাজার টাকায় রফা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় তানোর শিবনদীর উপর নির্মিত ব্রীজের সংযোগ সড়ক তৈরির সময় মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট এলাকা থেকে তানোর সদরের ঠাকুর পুকুর গ্রামের পীরসাহেব তার ছেলে লিটন, স্ত্রী হাওয়া বেগম, মেয়ে হাসি বেগম ও ছেলের বউ হাসনা বেগমকে তার নিজস্ব অটো গাড়ীতে নিয়ে সংযোগ সড়কের উপর বিছানো জিওটেক্স পেপারের উপর দিয়ে নিজ বাড়িতে আসছিলেন। এসময় সড়কের ঠিকাদার আবদুস সালাম তাকে বাঁধা দেন। এনিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঠিকাদার পীরসাহেবের ছেলে অটোচালক লিটনকে থাপ্পর দেন। ছেলেকে মারপিটের সময় পীরসাহেব বাধা দিতে গেলে উপস্থিত ঠিকাদারের লোকজন পীরসাহেবকে লাঠি পেটা করে। ঘটনার সময় পীরসাহেবের স্ত্রী, মেয়ে, ছেলে ও ছেলে বউ পীরসাহেবকে উদ্ধার করে গেলে তাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করা হলে অটো গাড়ী ফেলে পালিয়ে তানোর থানায় আশ্রয় নেন তারা।

এসময় থানা পুলিশ পীরসাহেবের অবস্থা বেগতিক দেখে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাকে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অটো গাড়ী উদ্ধার করে ঠিকাদারসহ তার লোকজনকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। পরে পীরসাহেবের গ্রামের লোকজন ঘটনাটি জেনে থানায় জড়ো হতে থাকে। এসময় ঠিকাদারকে থানার ভিতরে পাঁকড়াও করে হামলা করার চেষ্টা করে পীরসাহেবের লোকজন। পরে গোল্লাপাড়াবাজার থেকে ঠিকাদার কৌশলে পালিয়ে গেলে পীরসাহেবের গ্রামের লোকজন ঠিকাদারের ড্রামট্রাক চালানো সেন্টু ও দুলাল নামের দুই ড্রাইভাইকে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে তিনটি ড্রামট্রাক ভাংচুর করে। এঘটনায় আহত ড্রামট্রাক চালক সিন্টু মিয়া ও দুলাল হোসেনকে গোল্লাপাড়া বাজারে অবস্থিত সুকুমারের ফার্মেসীতে চিকিৎসা দেয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে শনিবার দুপুরে কমপ্লেক্স চত্বরে তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল মালেক, সাবেক তানোর পৌর যুবলীগের সভাপতি ইকবাল মোল্লা ও ছাত্রদল নেতা এমদাদসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নেতৃত্বে শালিস বৈঠক বসে। শালিসে ঠিকাদার সালামের সাড়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু পীরসাহেব ও তার স্ত্রী শালিসের এ রায় মানতে রাজি না হলে জোরপূর্বক শালিসদাররা সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নেন বলে জানান পীরসাহেব।
ঠিকাদার আবদুস সালাম জানান, পীরসাহেব ও তার ছেলে সংযোগ সড়ক তৈরির জিওটেক্স পেপারের উপর দিয়ে অটো চালিয়ে যায়। এসময় তিনি নিষেধ করা মাত্র অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তাদের এমন খারাপ আচরণে তার লোকজন তাদেরকে কিল-ঘুষি মারে। পরে পীরসাহেবের লোকজন দল বেধে তার উপর হামলার চেষ্টা করে। এসময় তিনি পালিয়ে গেলে তার দুজন ড্রামট্রাক চালককে বেধড়ক পিটিয়ে তিনটি ড্রামট্রাক ভাংচুর করে। এতে তার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবী করেন তিনি। তবে, শালিসের লোকজন অনুরোধ করায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা পীরসাহেবকে চিকিৎসা খরচ বাবদ দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশকে জানানো হলেও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় নি। একারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে থানা পুলিশ অপারগ।

  •  
  •  
  •  
  •