ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালনে রাসেদার ভাগ্যের পরিবর্তন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হরিনারায়নপুর মিঠাপুকুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম। রাসেদা এই গ্রামে বসবাসকারী শারীরিক প্রতিবন্ধী (এক পাঁ) একজন মহিলার নাম। পেশায় গৃহিণী। একমাত্র সন্তান, স্বামী ও মাকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। স্বামী দিনমজুর স্থানীয় শঠিবাড়ি বাজারে চায়ের দোকানে তার কাজ। বর্তমানে রাসেদা পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখছে।
একসময় ছিল যখন তার জীবন থেকে স্বপ্ন দেখার সাহস হারিয়ে ফেলেছিল। দারিদ্রতা, অপুষ্ঠি আর সামাজিক কুসংস্কার তাকে সবদিক দিয়ে অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছিল। মাত্র ২ বছর আগে একমাত্র স্বামীর আয়েই তার সংসার চলাতে কষ্ট হতো, অনাহারে অর্ধাহারে থেকে তার সন্তানকে যথাযত পুষ্টি দেয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। শারীরিক প্রতিবন্ধি হওয়ায় কঠিন কাজ করার ক্ষমতাও কেড়ে নিয়েছিল বিধাতা।
এমতাবস্তায়, মিঠাপুকুরের রানীপুকুর ও দুর্গাপুর ইউনিয়নে ২০১৪ সালে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর নবকলি প্রকল্প কাজ শুরু হয়। রাসেদা নবকলি প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচিত হয়। শুরু হয় তার নতুন করে বাচাঁর যুদ্ধ। উক্ত প্রকল্পের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় উপকারভোগীদের নির্বাচনের পর বিভিন্ন আয় বর্ধনমূলক কর্মকান্ডের (কৃষি ও অকৃষি) উপর দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এরপরে রাসেদা ০৩ টি ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগী, ০৬ টি দেশী মুরগী ও বিভিন্ন মৌসুমে তার বসতভিটায় সবজী চাষের জন্যে বিভিন প্রকারের বীজ পায়। অন্যান্য উপকারভোগীর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক উৎপাদনের ফলে তাদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, যা তার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারিবারিক অপুষ্ঠি দুরিকরনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
উক্ত আর্থিক সক্ষমতাকে টেকসই করার লক্ষ্যে নবকলি প্রকল্পের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহায়তাকারীরা সার্বক্ষণিক কারিগরি সহায়তা যেমন- গবাদী পশুপাখীর টীকা প্রদান কর্মসূচী, জৈব সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, উৎপাদন দল গঠন, স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুদের প্রতি মাসে ওজন নির্নয়ের মাধ্যমে পুষ্ঠির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পিডি হার্থ সেশন ও সঞ্চয়ী মনোভাব বৃদ্ধি ইত্যাদি প্রদান করে আসছে। বর্তমানে তার মোট ০৬ টি ছাগল, ১০ টি মুরগী আছে ও সে তার বসতভিটায় সবজি চাষ করছে।
রাসেদা বলেন “আমি ওয়ার্ল্ড ভিশন, নবকলি এর কাছে কৃতজ্ঞ তারা আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে; বর্তমানে কিছু ছাগল বিক্রি করে ১টি গরু কিনার স্বপ্ন দেখছি”।
এব্যপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ এনামুল হক জানান- “রাসেদা তার একান্ত ইচ্ছা শক্তিতেই এ পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে, এতে ওয়ার্ল্ড ভিশন , নবকলি প্রকল্পের ভূমিকা প্রশংসনীয়”।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকর্তা, নবকলি প্রকল্প মোঃ মোর্শেদুল আলম বলেন-“আমাদের লক্ষ্য টেকস্ই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অপুষ্ঠি দুর করা এলক্ষ্যেই আমরা সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি”।

