বাকৃবি গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে আগস্টে নিহতদের স্মরণে দোয়া ও এতিমখানায় খাদ্য বিতরণ

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আগস্ট মাস বাঙালি জাতির জন্য এক শোকাবহ মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা করা হয় এছাড়া স্বাধীন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ১৭ আগস্ট ২০০৫ দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়।

এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। ১৫, ২১ এবং ১৭ আগস্টে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল, পবিত্র কোরআন খতম এবং এতিমখানায় খাদ্য বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম।

সোমবার (৩০ আগস্ট) বাদ যোহর (১ টা ৪৫ মিনিট) দোয়ার আয়োজন করা হয়। দোয়ার পূর্বে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে পবিত্র কোরআন খতম এবং নিকটস্থ মরাখোলায় অবস্থিত এতিমখানায় বাচ্চাদের দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এতিমখানায় খাদ্য বিতরণ

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান। দোয়ার উদ্দেশে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন।

এ সময় গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, আগস্ট আমাদের জন্য অত্যন্ত শোকাবহ মাস। এ মাসে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়েছি। এই আগস্টেই সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে, এই আগস্টেই আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে যেখানে ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল, পবিত্র কোরআন খতম এবং এতিমখানায় খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম।

তিনি আরও বলেন, দেশী বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এসবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, আগস্ট মাসে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে আমরা আমাদের জাতির পিতাকে হারিয়েছি। জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু সবসময় বাঙালির অধিকার ও মুক্তির প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন। তিনি তার জীবনের ১৩ বছরেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়েছেন বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কারনে। তার এক আঙুলের ইশারায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। স্বাধীনতার পর তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে যখন সবাই দেশ গড়তে মনোনিবেশ করেছিলো তখন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। এরপর বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু পরিবার সম্পর্কে নানা ধরণের গুজব ছড়ানো হয় এবং ইতিহাস বিকৃত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কাছের অনেকে তখন দেশবিরোধী চক্রের সাথে হাত মেলায়। বঙ্গবন্ধু হত্যায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল কুশীলবের সাথে অভ্যন্তরীণ কলহও কাজ করেছে যার ফলশ্রুতিতে আমরা হারিয়েছি জাতির পিতাকে। এরপর দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাই আমাদের সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে যাতে কোন দেশ বিরোধী চক্র আবারো আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাঁধা না হতে পারে।

গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে হত্যার বিচার তো দূরের কথা ঘাতকদের নামও নেওয়ার পথ বন্ধ করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, বাঙালি জাতি কলঙ্ক মুক্ত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনো সক্রিয়। তাদের ষড়যন্ত্রের ফসল ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। এসব দেশবিরোধী শক্তির মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: ,