কারারক্ষীদের পোশাকে পাকিস্তানের চাঁদ-তারা প্রতীক!

ইসাহাক আলী, নাটোর প্রতিনিধি:
নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ৩০লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে বীর বাঙালি। এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সেই স্বাধীনতার ৪৫বছর পার করছে বাংলাদেশ। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি সেই পাকিস্তানেরই জাতীয় প্রতীক চাঁদ-তারা খচিত উলেন ক্যাপ এখনো কারারক্ষীদের ইউনিফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে আমদানি করা হয় এসব ক্যাপ। কিন্ত বিষয়টি যেন কারো নজরেই নেই। এদিকে কারা কর্তৃপক্ষের দাবী টেন্ডারকৃত ক্যাপে পাকিস্তানী কোন ছাপ নেই তবে বাহির থেকে কেনা ক্যাপে সেটা থাকতে পারে।

জানা গেছে, নবীন কারারক্ষীরা কর্মজীবনের শুরুতেই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে থেকেই। এখানে প্রশিক্ষণকালে এসব কারারক্ষীকে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতেও নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কিন্তু এসব কারারক্ষীর ইউনিফর্ম হিসেবে মাথায় চেপে আছে পাকিস্তানের জাতীয় প্রতীক। স্বাধীনতার ৪৫বছর পরও নাটোরসহ সারাদেশের কারারক্ষীদের এ কলঙ্ক বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এসব ক্যাপ রাষ্ট্রীয় টাকায় ঠিকাদারের মাধ্যমে আমদানি করা হয় পাকিস্তান থেকে। নাটোর জেলা কারাগারের একাধিক কারারক্ষী বলেন, আমাদের পোশাকের সঙ্গে একটি করে ক্যাপ পায়। তবে কোথায় এগুলো তৈরি হয় তা আমাদের জানা নেই। তবে এগুলো উন্নতমানের বলেও মনে করেন তারা।

এদিকে, টুপিতে চাঁদ তারা প্রতিক ছাড়াও পাকিন্তানের পাঞ্জাবে তৈরির সীলও মারা আছে। তবে এগুলো টেন্ডারকৃত ক্যাপ নয় বলে দাবী করে কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে এগুলো টেন্ডারের বাইরে প্রয়োজনে দোকান থেকে কেনা হতে পারে।

এ ব্যাপারে নাটোর জেলা কারাগারের জেল সুপার ফারুক আহম্মেদ বলেন, এসব ক্যাপ ঢাকা থেকে পাঠানো হয়। প্রত্যেক কারারক্ষী বছরে একটি করে উলেন ক্যাপ বরাদ্দ পায়। সরকারের টেন্ডারকৃত কোন ক্যাপে পাকিস্তানের ছাপ নেই। কেউ কেউ তাদের ক্যাপ নষ্ট হলে ঢাকার একটি মার্কেট থেকে অনেক সময় কিছু ক্যাপ কেনেন তাতে পাকিস্তানের ছাপ থাকলে থাকতেও পারে। বিষয়টি খতিযে দেখা হবে এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এদিকে পাকিস্তানের জাতীয় প্রতীক খচিত ক্যাপ আমদানির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বিশিষ্টজনরা।

নাটোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রউফ বিষয়টি শুনে বিস্ময় প্রকার করে বলেন, এটি কী করে সম্ভব? এটা নিয়ে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করব এবং বিষয়টি সরকারের উর্দ্ধতন মহলে জানিয়ে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।

নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি ব্যক্তিগত ভাবে অবগত নয়। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। যে প্রতিষ্ঠান এটি করেছে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসে এটা কোন ভাবেই মানা যায় না।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: