জুনিয়র রুমমেটের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার চেষ্টা সিনিয়রের

নিউজ ডেস্ক:

গত শনিবার (২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে জুনিয়র রুমমেটের দেওয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাত ১২ টার দিকে ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনা জানাজানি হয় সোমবার। বর্তমানে ওই ছাত্রী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড় এলাকায় ‘বাচ্চু মিয়ার মেস’ নামক একটি ছাত্রী নিবাসে এই ঘটনা ঘটে। ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার পর জ্ঞানহীন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী মেসের একই কক্ষে থাকেন। ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তার অন্যান্য বান্ধবীদের নিয়ে নিয়মিত গ্রুপ স্টাডির নামে মেসে এনে থাকেন। সেখানে তাদের নিয়মিত আড্ডা জমে। প্রায় দুই মাস ধরে এটিকে কেন্দ্র করে সমস্যায় ভুগছিলেন ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ গত শনিবার (২০ নভেম্বর) ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেস মালিক সোহাগ আলীকে এই সমস্যার কথা জানান। সোহাগ আলী ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীকে তার গেস্ট সংখ্যা সীমার মধ্যে নিয়ে আনতে বলেন। এটিকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যায় তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এই ঘটনা তার বিভাগের ১১তম ব্যাচের সিনিয়র এক ভাইকে জানান। সিনিয়র ভাই একই ব্যাচের আরো কয়েকজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের আরো কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী নিয়ে বাড়িওয়ালাকে খুঁজতে খুঁজতে মেয়েদের মেসের ভিতর প্রবেশ করেন।

১৪তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, মেসে ঢুকে ওই সিনিয়র ভাই ও আরো কয়েকজন তাকে শাসিয়ে বলে, “তোরে মাইরা ফালাইয়া রাইখা যামু কেউ টেরও পাইব না। তোর বাপ-মা শিক্ষা দেয় নাই? ক্যাম্পাসে কেমনে ফ্রিলি চলিস দেইখা নিমু নে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাহায্যের জন্য তার এক ছেলে বন্ধুসহ অন্যান্যদের মেসের ভিতরে ডেকে আনেন। তখন দুই পক্ষের মাঝে উচ্চবাচ্য হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালা দুই গ্রুপকে নিয়ে নিচে নেমে যান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ কয়েকজন সে সময় উপস্থিত থাকায় বাড়িওয়ালা ও শিক্ষার্থীদের সাথে বসে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে রুম পরিবর্তনের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করেন এবং ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীকে রুম ছেড়ে দিতে বলেন।

হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১১তম ব্যাচের ওই সিনিয়র শিক্ষার্থী বলেন, “আমাকে আমার ছোট বোন ফোন দিয়ে কান্না করে বলে তার মেসে সমস্যা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ইলিয়াস ভাই বিষয়টি সমাধান করেছেন। কিন্তু সমধান করার পরও সেই মেয়ে ( ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী) মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার উদ্দেশ্য কি সেটা বুঝলাম না?”

মেস মালিক সোহাগ আলী বলেন, “আমাকে জুনিয়র মেয়েটি অভিযোগ জানিয়েছিল যে তার রুমমেট বড় আপু বান্ধবী নিয়ে রুমে আড্ডা দেয় এতে তার ডিস্টার্ব হয়। আমি সিনিয়রকে বলেছিলাম যেন এমন আর না করে। এরপর ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জুনিয়র মেয়েটির মা আমাকে ফোন দিয়ে বলে তার মেয়ে নাকি কান্না করতেছে। সাথে সাথেই আমি সেখানে যাই। আমি যাওয়ার দুই থেকে তিন মিনিটের ভিতরে সিনিয়র মেয়েটির ছেলে বন্ধুরা মেসে আসে। এরপর তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। কিন্তু কেউ কাউকে গালিগালাজ বা মারধর করার হুমকি দেয়নি। আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম।”

তিনি আরো বলেন, “এরপর জুনিয়র মেয়েটির ছেলে বন্ধুরাও মেসে আসে। দুই পক্ষের মাঝে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। তারপর ছেলেদের সবাইকে নিয়ে মেসের বাইরে এনে ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াসসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে বিষয়টা প্রাথমিকভাবে সমাধান হয়।”

এদিকে, বিষয়টি সমাধানের পর রুমে ফিরে গিয়ে ২০১৯-২০ সেশনের জুনিয়র শিক্ষার্থী জীবন ও সম্ভ্রম নিয়ে শঙ্কায় আছেন উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার ওই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়লে কমেন্টে নানা ধরনের কটু মন্তব্য করেন অনেকেই। জুনিয়রের স্ট্যাটাসে লেখা সবকিছু মিথ্যা ও বানোয়াট এমন অভিযোগ তুলে পাল্টা স্ট্যাটাস দেন সিনিয়র। এরপর মানসিক চাপে পড়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের দায়িত্বে ছিলেন ডা. শাহজালাল। তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি ওই ছাত্রীকে। এখন তাকে আইসিইউতে রাখা দরকার ছিল। তাই আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, “আমার কাছে একজন লিখিত অভিযোগ দিয়ে গেছেন। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করব। আরেকজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি, তাই তাড়াহুড়ো করছি না।” দুই পক্ষের কথা শুনেই সমাধান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •