কৃষির গুচ্ছ পরীক্ষায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভর্তিচ্ছুরা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সম্প্রতি ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ৭টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই পরীক্ষায় নানা ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। জানা গিয়েছে, উক্ত পরীক্ষায় ফলাফল দুইবার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমবার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর প্রকাশিত এই ফলে অসঙ্গতির অভিযোগ তুললে তা আমলে নিয়ে ফল পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ দেয় আয়োজক কমিটি। এক হাজার টাকা ফি দিয়ে গত শনিবার (৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন। এরপর গতকাল রবিবার (৫ ডিসেম্বর) থেকে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করা শিক্ষার্থীরা সশরীরে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরকৃবি) ডাকা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব উত্তরপত্র দেখানো হলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা।
ভুল উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে ভর্তিচ্ছুরা বলছে, ভর্তি পরীক্ষার ‘ক’ সেটের মোট ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে দশটি প্রশ্নের উত্তর ভুল ধরে মূল্যায়ন ও ২টি প্রশ্ন ভুলের বিষয়টি উঠে এসেছে। এদিকে ভুল উত্তর দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ফলে পুরো ফলাফলে বিরাট অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। ফলাফল নিয়ে এমন অনিয়মের ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও। এর ফলে বেশ বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথমবারের ফলাফলের ভিত্তিতে অনেকে অন্যান্য জায়গায় ভর্তি হননি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বাতিল করেছে। কিন্তু ফলাফল পুনরায় প্রকাশিত হলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে ছিটকে পড়েছেন যার দরুণ তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
এরকমই একজন শিক্ষার্থী জানান- প্রথম মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিলো ৫৩৪ তম, পরবর্তীতে রেজাল্ট পুনঃপ্রকাশিত হলে তার পজিশন ৭৩৪ তম হয়ে যায়। যার দরুণ ঐ শিক্ষার্থী দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী প্রতিবন্ধী কোটা নির্বাচন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। উক্ত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী তার অবস্থান ছিলো সাধারণ মেধাতালিকায় ১৫৭তম। পরবর্তীতে, ফলাফল পুনঃমূল্যায়ন করা হলে তার সাধারন মেধাতালিকায় আসে ১৩৯তম এবং প্রতিবন্ধী কোটাতে ১ম (ছবি দেখুন)। এখন, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তি হতে পারবেন। এক্ষেত্রে মেধা অনুযায়ী তার প্রতিষ্ঠান আশানুরূপ হবেনা যার দরুণ ঐ শিক্ষার্থীটি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
প্রবাসী কোটায় আবেদনকারী একজন শিক্ষার্থী জানান সার্বিক মেধা তালিকায় তিনি উত্তীর্ণ হলেও প্রবাসী কোটা নির্ধারণের কারণে ভর্তি হতে পারছেন না। কিন্তু এ ধরনের কোনো নিয়ম তিনি জানতেন না।
প্রসঙ্গত, পূর্বে ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস ও এডমিট কার্ড ডাউনলোড নিয়েও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন যা গুচ্ছ পদ্ধতির সার্বিক কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

