কৃষির গুচ্ছ পরীক্ষায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভর্তিচ্ছুরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আসছে কৃষি ভর্তি পরীক্ষা, হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাঁদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে, বিভিন্ন কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করবে পরীক্ষাটিতে। পরীক্ষাটি বাংলাদেশের ৫টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি, শেকৃবি, সিকৃবি, বশেমুরকৃবি, খুকৃবি), সিভাসু এবং কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) অর্থ্যাৎ মোট ৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত প্রয়াসে আগামী ২৭ নভেম্বর গুচ্ছাকারে সম্পন্ন হবে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে এক নতুন আশার সৃষ্টি হলেও বাস্তবে সেই আশা কতটুকু পূরণ হচ্ছে তা নিয়ে সংশয়  দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, কৃষির এই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ গুন শিক্ষার্থীকে মেধাক্রম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের জন্য সুযোগ দেয়া হয়। এদের মধ্যে যারা প্রবেশপত্র ডাউনলোড করেনি তাদের পরিবর্তে পরবর্তী মেধাক্রম থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই ডাউনলোড করতে না পারায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানা যায়।

প্রবেশপত্র ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করায় এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এরকম কোন তথ্য না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের তাদের ইচ্ছামতো পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচনের সুযোগ থাকলেও ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি প্রবেশপত্র ডাউনলোডের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কেন্দ্র ও আসনবিন্যাস সাজিয়েছেন বলে অনেকেরই অভিযোগ। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অনেকেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এর ফলে অনেক শিক্ষার্থীকেই তাদের বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে গিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে যা একদিকে ব্যয়বহুল এবং অপরদিকে ভোগান্তি বটে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, “তারা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কৃষির গুচ্ছ পরীক্ষার ওয়েবসাইট খেয়াল রাখতে পরেনি। ফলে কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে যাওয়ায় যারা প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারেননি। অন্য সব ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি।“

ইমরান নামে একজন পরীক্ষার্থী বলেন, “আমি ২য় বারের পরীক্ষার্থী। বর্তমান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। এবারের অটোপাশের ফলাফল আমাদের তুলনায় অনেক বেশি ভালো। এ অবস্থায় কাটমার্কসের কারণে এমনিই পিছিয়ে থাকছি আমরা। আমার ফার্ষ্ট চয়েস পটুয়াখালী দেয়া থাকলেও যেতে হবে এখন চট্টগ্রাম। এ অবস্থায় পরীক্ষার আগে এমন আসনবিন্যাস খুবই চিন্তাদায়ক।”

আরেক পরীক্ষার্থী আতিকুর বলেন, ” আমি প্রথম চয়েস দিয়েছিলাম শেকৃবি। তবে এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই আমার যেতে হবে বাকৃবি।”

গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, “পরীক্ষার আগে সর্বদা ওয়েবসাইটে খেয়াল রাখাও সম্ভব হয়না। তাই ফর্ম পূরণ, স্বাক্ষর ও ছবি জমা দেয়া, প্রবেশপত্র তোলা ইত্যাদি নোটিশ জানা সম্ভব হয় না। তখন অজ্ঞাতবশতই আবেদন বাতিল হয়ে যায়।” এমনটাই ঘটেছে তার এক বন্ধুর সাথে।

বগুড়া থেকে তানজিলা বলে, ” ময়মনসিংহে আত্মীয় থাকায় বাকৃবিতে চয়েস দিয়েছিলাম। এখন সিট পড়েছে সিকৃবিতে। সেখানে আমার পরিচিত কেউ নেই। এখন একা মেয়ে হয়ে এতদূর থেকে সেখানে যেয়ে পরীক্ষা দেয়া প্রায় অসম্ভব।”
আশিকুর নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতিতে পছন্দ তালিকার কোনো মূল্য নেই। তারা নিজেদের ইচ্ছামত আসনবিন্যাস করেছে।” মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি উল্লেখ করে বলে,”তারা অতিরিক্ত আসনের জন্য একই এলাকার স্কুল বা কলেজে আসন ফেলিয়েছে।এভাবে হয়রানি করে নি।”

আসনবিন্যাস প্রকৃতপক্ষে কীসের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে তা অবিভাবক বা পরীক্ষার্থী কেউই নিশ্চিত নয়। কেউ বলছে ফলাফলের উপর, কেউ বলছে প্রবেশপত্র সংগ্রহের অগ্রাধিকারের উপর।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আমরা আসনবিন্যাস করেছি শিক্ষাবোর্ড থেকে কয়েকটা বিষয়ের উপর ডাটাবেজ এর তথ্যের উপর ভিত্তি করে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান এর মার্ক বিবেচনা করে। আর ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে, প্রথম চয়েস অনুযায়ী আসন দেয়া হবে এমন উল্লেখ নেই। তাই এ বিষয়ে অভিযোগের সুযোগ নেই।”

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তারা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে সাতটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এতে তাদের ভোগান্তি ও খরচ কমে যাচ্ছে।

প্রবেশপত্র ডাউনলোডের বিষয়ে প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ বলেন, “যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডাউনলোড করে নাই, ধরে নেওয়া হচ্ছে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে না, তারা হয়ত অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে । একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুযোগ দেওয়ার পর আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয় তাতে পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে ।“ নতুন নিয়মে কিছু অসংগতি থাকতেই পারে, প্রথমবারের মত কিছু ত্রুটি- বিচ্যুতি হয়েছে সেগুলো সামনের বছর সঠিকভাবে করা যেতে পারে।

মোট আসনের দশগুন শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহনের সুযোগের মধ্য দিয়ে আগামী ২৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ০২ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,