হেফাজতের পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
হেফাজতে ইসলামের সদ্যসাবেক আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আহবায়ক কমিটির অন্য চারজন হলেন মহিববুল্লাহ বাবুনগরী, নুরুল ইসলাম জিহাদী, সালাউদ্দিন নানুপুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী।

কমিটি বিলুপ্তির সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তিন সদস্যের নতুন আহবায়ক কমিটি রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘোষণা করা হয়। পরে ভোর চারটার দিকে জানানো হয়, সালাউদ্দিন নানুপুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আহবায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

মহিবুল্লাহ বাবুনগরী আগের কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আর নুরুল ইসলাম মহাসচিব ছিলেন। মহিববুল্লাহ বাবুনগরী জুনায়েদ বাবুনগরীর মামা।

আহবায়ক কমিটি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে হেফাজত নেতা আহসান উল্লাহ বলেন, আজ সোমবার আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম ঘোষণা করা হবে। আহবায়ক কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে সারাদেশে নতুন কমিটি গঠন করবে।

এদিকে রোববার রাত ১১ টার দিকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন জুনায়েদ বাবুনগরী। ওই সময় তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

এই ঘোষণার পর হেফাজত ইসলামের আগের কমিটির যুগ্ম মহাসচিব (আহমদ শফী পন্থী) মঈনুদ্দীন রুহী বলেন, শিগগিরই তারা আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করবেন। সেখানে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হবে। বাবুনগরীকে আহবায়ক করে নতুন কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত জানাবেন। এটি কমিটি হয়নি।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীর অনুসারী কাউকে রাখা হয়নি। এরপর থেকে তাঁরা এই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে আসছেন।

রোববার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের প্রচলিত সব ধরনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। আল-হাইআতুলের অধীনেই কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হয়ে থাকে। যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় আল-হাইআতুলের স্থায়ী কমিটির সভায় ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতির বাইরে থাকার ওই সিদ্ধান্ত হয়। তাঁদের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও ঠিক হয়।

গত মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ–সহিংসতার পর হেফাজতের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। বিক্ষোভ–সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় হেফাজতের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৯ হাজারের বেশি জনকে আসামি করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •