বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবিতে রাবি ছাত্রলীগের মানববন্ধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
প্রকৌশলীকে মারধরের দায়ে স্থায়ী বহিষ্কৃত তিন ছাত্রলীগ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানায়। মানববন্ধনে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধরণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড রাবি শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক টগর মো. সালেহ প্রমুখ।
মানববন্ধনে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি তারা ভুল করেছে। কিন্তু লঘু অপরাধের জন্য গুরু শাস্তি দিতে পারেন না।’ তাদের ভুল মাফ করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে প্রশাসনের কাছে তিনি অনুরোধ জানান।
এসময় ছাত্রলীগ সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনারা ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যাকারীদের বিচার করতে পারেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুস হত্যার সঙ্গে জড়িত ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের বিচার করেননি, অথচ ছাত্রলীগের এই নেতাদের সামান্য ভুলের কারণে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করলেন। যারা সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে।’
এসময় বক্তরা বলেন, আজ আওয়ামী লীগ সরকার ও ছাত্রলীগ আছে বলেই আপনারা ঐ চেয়ারে আছেন, তা নাহলে আপনারা থাকতে পারতেন না। তারা আরও বলেন, সামান্য অপরাধের জন্য তিনজন ছাত্রলীগ নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ এর চেয়েও গুরুতর অপরাধের শিবিরের নেতাকর্মীরা জেলে বসে পরীক্ষা দেয়। যেসকল ছাত্রলীগ নেতা হত্যা ও আহতের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দ্রুত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট টেন্ডার নিয়ে দ্বন্দে ক্ষুব্ধ হয়ে উপাচার্য দপ্তরের অপেক্ষামান কক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনিরকে মারধর করে ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, সহ-সভাপতি তন্ময়ানন্দ অভি ও শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন-অর-রশীদ। এই ঘটনার দুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বিশেষ ক্ষমতাবলে জড়িত তিনজনকে সাময়িক বহিস্কার করে তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি তদন্ত শেষে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করে। এর ওপর ভিত্তি করে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ মার্চ সিন্ডিকেট সভায় তাদেরকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়।

