কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণে মতবিরোধ নয়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ২১ ডিসেম্বর একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয় এতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ৩‘শ ৭০ কোটি টাকা। তবে এ অভিযোগকে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক এবং অনভিপ্রেত বলছেন অনেকেই।

জেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দক্ষিণে কুড়িগ্রাম-চিলমারী মহাসড়কের পাশে নালিয়ার দোলায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চূড়ান্ত স্থান নির্বাচন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী,  কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন ও সুধী সমাজের অনেকেরই উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিকভাবে টগরাইহাট, দশের হাট ও নালিয়ার দোলা নামক তিনটি অঞ্চলের নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কমিটির জায়গা তিনটি পরিদর্শন ও তুলনামূলক বিবরণীতে দেখা যায়, টগরাইহাট এলাকাটি ২৮০ একর জায়গায় জুড়ে এবং কুড়িগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫ কিমি দুরে অবস্থিত। এছাড়া ডোবা ও দোলা বিশিষ্ট এই জায়গাটিতে রেলওয়ের জমি রয়েছে। দশের হাট এলাকায় ২০০ একর জমির মধ্যে ৩৬.৬০ একর খাস জমি, রাস্তা সরু এবং সেখানকার জলমহালটি স্থানীয় মৎস্যচাষীদের কাছে দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা দেওয়া আছে।

অপরদিকে, নালিয়ার দোলা জায়গাটি ৪০০ একর জুড়ে শহর থেকে ৩ কিমি দুরে অবস্থিত। জায়গাটিতে রেল, নৌ ও সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এবং সেখানে কোন ইজারা বা সরকারের অন্য কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের জমি না থাকায় সংশ্লিষ্ট কমিটি ও বিশেষজ্ঞগণ নালিয়ার দোলাকে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এছাড়া নালিয়ার দোলা স্থানটির পশ্চিমে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্প নগরীর অবস্থান। জামালপুর-চিলমারী/গাইবান্ধা এলাকায় প্রস্তাবিত যমুনা সেতু স্থাপিত হলে ঢাকা’র সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হবে যা বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু মিলিয়ে নালিয়ার দোলা স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

টগরাইহাট অঞ্চলটির দক্ষিণ দিকে প্রায় ১ কি.মি. দীর্ঘ একটি গভীর ডোবা আছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য গবেষণার জন্য করা গেলেও গভীর এই ডোবা ভরাট করতে খরচের পরিমান বেশী হবে। তাই এই মুহুর্তে জমির মূল্য নির্ধারণ করে প্রতিবেদনটিতে সরকারের বাড়তি ব্যায় নির্ধারণকে অবান্তর বলছেন অনেকেই।

সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের বাঞ্চারাম-৩৫ মৌজা এবং বেলগাছা ইউনিয়নের সড়া-৩৪ মৌজায় অবস্থিত নালিয়ার দোলা নামক স্থানে ২৫০ একর জমি বরাদ্দের সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

বিশ্ববিদ্যালয় একটি সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উন্নত দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এটি দেখভাল করার জন্য রয়েছে ইউজিসি নামক একটি প্রতিষ্ঠান। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও এর শিক্ষা ও গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন একটি ‍গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই মতবিরোধ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রধান্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা  শুভ হোক এটিই সকলের কাম্য।

  •  
  •  
  •  
  •