প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে পিছিয়ে পড়ছে বাকৃবি
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ
প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে ক্রমান্বয়ে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়টির পিছিয়ে পড়ার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের একাংশ।
অনুপ্রবেশকারী অসৎ ও আদর্শহীন ব্যক্তি দ্বারা প্রশাসন পরিচালনা, শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা, ডিপিপি এর বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, ক্যাম্পাসে উপাচার্যের অনুপস্থিতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, নিয়োগে অনিয়মসহ নানা কারণ তুলে ধরা হয় এই সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড. পূর্বা ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গুটিকয়েক অনুপ্রবেশকারী, স্বার্থান্বেষী, নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত, অযোগ্য ও অদক্ষ লোকের কবলে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার কাঙ্খিত গতি ও দীর্ঘ লালিত ঐতিহ্য হতে ক্রমান্বয়ে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে অযোগ্য ও অদক্ষ লোকদের ব্যর্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সেশনজোট জেঁকে বসেছে। আবার কিছু বর্ষের সেশনজটের কারণে অন্যদের সময়মত পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ৭০ জন পিএইচডি শিক্ষার্থীর সকল প্রক্রিয়া শেষ হলেও ডিগ্রী প্রদান করতে প্রায় দেড় বছর দেরি করায় বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের সুনাম ম্লান হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, করোনার অজুহাতে একাডমিক কাউন্সিলকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধির জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচনসমুহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। একাডেমিক কাউন্সিলের সভাসমুহ এখনও জরুরী সভা হিসেবে অনলাইন ভিত্তিক চলমান রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আর বলা হয়, ৬’শত উনষাট কোটি টাকার ডিপিপি বরাদ্দের মাত্র প্রায় ৭% কাজ ৩ বছর মেয়াদকালে সম্পন্ন হয়েছে। বাকী টাকা সংশোধিত (রিভাইজ) প্রস্তাব আকারে ফেরত চলে গেছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা বরাদ্দ কমিটির অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
দায়িত্বপালনরত অবস্থায় শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর হেনস্থা হবার ঘটনায় কোন বিচার হয় না। অফিসপ্রাঙ্গনে ও আবাসিক এলাকায় চুরি নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. এম. এ. এম. ইয়াহিয়া খন্দকার বলেন, ‘বিতর্কিত লোকজন দিয়ে ভিসি স্যার প্রশাসন পরিচালনা করছেন। যারা বিগত সময়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল আজ তারাই প্রশাসনিক পদে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। তিনি ভিসি হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিসির জন্য নির্দিষ্ট বাসভবন ব্যবহার ছাড়া বিশাল আকৃতির আরেকটি সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন। বেশির ভাগ সময় তিনি ঢাকায় থাকেন। যার জন্য প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা কোনোভাবেই কমছে না।’
ক্ষমতার অপব্যবহার, কথায় কথায় মিথ্যা আশ্বাস প্রদান, আদর্শের মধ্যে বিভক্তিসহ নান অভিযোগ তুলে এই অসৎ ও নৈতিকতাহীন প্রশাসনের অনিয়মতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচারী ও ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ড অচিরেই বন্ধের দাবী জানান এই শিক্ষক সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. ইমদাদুল হক চৌধুরী ও প্রফেসর ড. মনজুরুল আলম চম্পকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, ময়মনসিংহ শহরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বাকৃবি‘র সাংবাদিকবৃন্দ।
তবে, সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান। এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, ‘আমার মতো স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিগত সময়ে কোনো ভিসিরাই দায়িত্বপালন করতে পারেনি। যারা এমন অভিযোগ করছেন, তারা অহেতুক করছেন। উন্নয়নের কোনো টাকাই ফেরত যায়নি। শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের প্রশ্নই ওঠে না। কারণ আমি আমার ভাই–বোন, ছেলে–মেয়ে আত্মীয়–স্বজন কাউকেই নিয়োগ দেয়নি। ভিসির বাসভবনের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে দুটি বাসাই ব্যবহার করতে হচ্ছে। অপচয় আমার মধ্যে নেই, তা কম বেশি সবাই জানে। কাজ করতে হলে বোর্ড গঠন করা হয় তারাই সেটি তদারকি করে থাকেন।’

