তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ দিনাজপুরে জনজীবন
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
গত কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের মানুষ। প্রচন্ড গরমে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়েই থাকতে হচ্ছে ঘরবন্দি। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে এই তাপমাত্রা আরো কয়েকদিন থাকবে। দিনাজপুরে গত ছয়দিনে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠানামা করেছে তাপমাত্রা ।
শনিবার দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের নির্ণয় অনুযায়ী জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়,প্রচন্ড গরমের কারণে বিভিন্ন হাট-বাজার, মোড়গুলোতে ভ্রাম্যমাণ তরমুজ, ডাব ও আখের রসের দোকান বসেছে। এসব দোকানে ভিড়ও বেশ। এছাড়া গ্রাগুলোতে গরমে অতিষ্ঠ ছোট শিশুরা পুকুরে নেমে দীর্ঘদিন ধরে ডুব-সাঁতারসহ গোসল করছে। অনেককেই দেখা গেলো, গরম থেকে বাঁচতে ছাতা মাথায় চলাচল করতে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ তরমুজ ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন জানিয়েছেন,গত কয়েক দিন থেকে প্রচন্ড গরমের কারণে তরমুজের খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি তরমুজ ৮০ থেকে এক’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শহরের বাহাদুর বাজার এলাকায় আখের রস ব্যবসায়ী মকবুল জানালেন, এই তাপে একটু স্বস্বি পেতে মানুষ আখের রস পান করছেন। প্রতি গ্লাসের মূল্য নিচ্ছেন ১০ টাকা। গত কয়েকদিন থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্লাস রস বিক্রি করছেন। আগে তিনি প্রতিদিন বিক্রি করতেন ১০০ থেকে ২০০ গ্লাস রস।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জিনাত আরা জানান, প্রচন্ড এই তাপদাহে বেশি বেশি করে পানি পান করতে হবে। রোদের মধ্যে বেশিক্ষণ চলাচল করা যাবে না। শিশুদের খুবই যত্নে রাখতে হবে যাতে গরমের ঘাম তাদের শরীরে বসে না যায়। এছাড়া শারীরিক অসুবিধা মনে হলেই দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর আবহাওযা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক গোলাম রাব্বানী জানান, গত ছয়দিনে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠানামা করেছে। এর মধ্যে ৯ এপ্রিল তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি ছিল। এ রকম তাপমাত্রা আরো কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আগামী দু’একদিনের মধ্যে ঝড়ের সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা কমার তেমন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

