বাকৃবিতে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘ভবিষ্যৎ সুস্বাস্থ্যের জন্য ডিম’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভেটেরিনারি অনুষদ ও বিশ্ব পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের আয়োজনে বাকৃবিতে পালিত হল ‘বিশ্ব ডিম দিবস’।

দিবসটি উদযাপনের লক্ষে ভেটেরিনারি  অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিকাল ৩টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক দিয়ে বাকৃবি হেলিপ্যাড প্রাঙ্গনে শেষ হয়। সেখানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.এমদাদুল হক চৌধুরী  শিশুদের ডিম খাওয়ানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন।

এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ভেটেরিনারি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড.আবদুল আউয়ালের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী।  তিনি বলেন, চাল উৎপাদনের গুরুত্ব কমিয়ে বরং প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদনে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রান্তিক ভোক্তা পর্যায়ে ডিম খাওয়া নিশ্চিত করতে চাল উৎপাদনের মতো ডিম উৎপাদনেও প্রণোদনা দেওয়া উচিত।

সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বাহানুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন  অধ্যাপক ড.তৌহিদুর রহমান। সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা – বিবি) সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, ওয়াপসা – বিবির সাধারণ সম্পাদক ড. বিপ্লব কুমার প্রামানিক, বাউরেস এর পরিচালক প্রফেসর ড . মাহফুজা বেগম, প্রফেসর ড. আবু হাদী নূর আলী খান, ডীন কাউন্সিলের কনভেনর প্রফেসর ড.আবুল মনসুর।

সর্বশেষ তথ্য মতে, বাৎসরিক বাংলাদেশে ডিম উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৩.৩৩ বিলিয়ন এবং মাথাপিছু ডিমের পরিমাণ বছরে ১০৬টি। ২৫ গ্রাম প্রোটিন বাজার মূল্যে পেতে ডিমের পিছনে খরচ করতে হয় মাত্র ৪০ টাকা যা অন্যান্য সব উৎসের তুলনায় সর্বনিম্ন। প্রতিটি ডিমে প্রোটিন রয়েছে ৭.৫৫ গ্রাম। ডিমে প্রোটিন, মিনারেল, ভিটামিন, অ্যামিনো এসিড, কোলিন ইত্যাদি অনেক পরিমাণে থাকে। যা হৃদরোগ, চোখের রোগ, স্ট্রেস, উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

বর্তমানে মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারণে ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু অন্যান্য দ্রব্যের তুলনায় বেশি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধির তুলনায় ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২২ ভাগ।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, পৃথিবীতে তিনটি দেশ আছে যারা বাংলাদেশের থেকে কম দামে ডিম উৎপাদন করে। এদিক থেকে বর্তমানে ডিমের মূল্য সাশ্রয়ী আছে। বাংলাদেশকে সুপার পাওয়ার দেশ বানাতে গেলে জাতিকে ডিম খাওয়ানোর বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে গেলে জাতিকে ডিম খেতে হবে।

এর আগে বাকৃবির পশুপালন অনুষদের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •