বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে বাকৃবিতে ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সংসদ বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে।
রবিবার (১২ ই মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড়ে শহীদ মতিউল-কাদের চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বড় বড় গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছে। মূলত অবকাঠামো নির্মাণের নামে এসব বৃক্ষ নিধনের ঘটনা ঘটিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ২ মে ভেটেরিনারি অনুষদ সংলগ্ন প্রাঙ্গনে প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি পুরনো একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রায় ২ বছর আগে প্রক্টর অফিসের সামনের মে ফ্লাওয়ার গাছটিও কেটে ফেলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফার্স্ট গেইট থেকে ফসিল পর্যন্ত রাস্তাটির চার-লেন উন্নীতকরণের প্রকল্পে এই রাস্তার ২ ধারের অনেক পুরনো এবং বড় বড় গাছ কাটার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। এছাড়াও তাপসী রাবেয়া হলের সামনেও গাছ কাটা হয় ৷
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়ন বাকৃবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক তারেক আবদুল্লাহ বিন আনোয়ার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শান্ত বর্মন, সদস্য মোঃ রাসেল আল মামুন এবং ইসতিয়াক আহমেদ নিলয়।
সাধারণ সম্পাদক তারেক আবদুল্লাহ বলেন, গাছ না কেটে পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে অবকাঠামো নির্মাণ এবং নতুন বৃক্ষরোপণ ও তাদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। যদি ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এই বৃক্ষনিধনের মতো আত্মঘাতী কর্মসূচি থেকে সরে না আসে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তবে ভেটেরিনারি অনুষদ সংলগ্ন কৃষ্ণচূড়াটি গাছ কেটে ফেলা সম্পর্কে মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান বলেন, পুরো গাছটি কেটে ফেলা হয় নি। মূলত উচ্চতর গবেষণা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের নিজস্ব অর্থায়নে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য কৃষ্ণচূড়া গাছটির কেবলমাত্র কিছু ডালপালা ছাটাই করা হয়েছে যাতে কোনো বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা না ঘটে। সম্পূর্ণ গাছটি এখনো দাড়িয়ে আছে। ছাটাই করা অংশ থেকে গাছটিতে পুনরায় নতুন ডালপালা গজাবে।

