বড়াইগ্রামে শিশু সন্তানকে গলাটিপে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

ইসাহাক আলী, নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নের ভান্ডারদহ গ্রামে ফারদিন আহম্মেদ (৪) নামে এক শিশু সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা সেলিনা বেগম (২৮)।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

চান্দাই ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, প্রায় সাত বছর আগে ভান্ডারদহ গ্রামের আব্দুল হালিমের মেয়ে সেলিনা বেগমের সাথে একই গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল আলীমের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই আব্দুল আলীম ঢাকা বিমানবন্দরে চাকুরীরত ছিলেন। চার বছর আগে তাদের ঘরে জমজ সন্তান ফারদিন ও তাহসিনের জন্ম হয়। সম্প্রতি তাদের পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিলে এক সপ্তাহ আগে সেলিনা ও তার দুই ছেলেকে ভান্ডারদহ গ্রামে রেখে যান আব্দুল আলীম। কিন্তু আব্দুল আলীমের এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি সেলিনা বেগম। ফলে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে সোমবার সকালে ফারদিনকে গলাটিপে হত্যা করে অপর সন্তান তাহসিনকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়। পরে সেলিনা বেগম গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

সেলিনার স্বামী আব্দুল আলীম বলেন, বর্তমানে চাকুরীতে ওভারটাইম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই বউ, ছেলেদের কিছু দিনের জন্য বাড়িতে রেখে গিয়েছিলাম। এরমধ্যে সেলিনা যে এমন ঘটনা ঘটাবে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সেলিনার বাবা আব্দুল হালিম বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। রিপোর্ট পেলে তদন্তের মাধ্যমে আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যা এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

  •  
  •  
  •  
  •