ঝিনাইদহে পাট বীজের বাজার অনিবন্ধিতদের দখলে!

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের পাট চাষিরা জমিতে পাট বীজ বোনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কিন্তু পাট বীজের বাজার চলে গেছে অনিবন্ধিত বীজ ব্যবসায়িদের দখলে। নিবন্ধন নিয়েও অনিবন্ধিত বীজ ব্যবসায়িদের দাপটে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। ইচ্ছেমত দামে পাট বীজ বিক্রি করছে দোকানিরা। কৃষকরা বীজ কিনে প্র্রতারনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শৈলকুপার হাট ফাজিলপুর গ্রামের পাট চাষি সেলিম হোসেন মন্ডল, আব্দুল বারি মিয়া জানান, এখন পাট বীজ জমিতে বোনার ভরা মৌসুম। প্রতি বছরই বিভিন্ন আবাদের মৌসুমকে সামনে রেখে হাট বাজারের অনিবন্ধিত বীজের দোকান গুলোতে দেদারছে বীজ বিক্রি হয়ে থাকে। এমনকি মোদি দোকানেও বীজ বিক্রি করা হয়। কোন বীজ ব্যবসাযি প্রতিষ্ঠানের অনুুমোদন আছে, আর কোনটির অনুমোদন নেই তা দেখে বোঝার উপায় নেই। ফলে বীজ কিনে মাঝে মধ্যেই কৃষকরা প্র্রতারিত হচ্ছে। ব্যবসায়িরাও ইচ্ছে মত দামে বীজ বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ করেন। তারা আরো জানান, গত সপ্তাহে যে বীজ প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ২৮০-২৮৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন সেই বীজ ৬’শ-৭’শ-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঝিনাইদহ কৃষি উন্নয়ন কপোর্রেশন সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ভারঃ) মোঃ সফিউদ্দিন সবুজ জানান, জেলার ৬টি উপজেলায় বিএডিসি’র নিবন্ধিত বীজ ডিলারের সংখ্যা ৭৮টি। যা সদর উপজেলায় ১১জন, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৬জন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ০৭জন, মহেশপুর উপজেলায় ১৯জন, শৈলকুপা উপজেলায় ১৭জন এবং হরিনাকুন্ডু উপজেলায় ১৭জন নিবন্ধনকৃত বীজ ডিলার রয়েছে। তবে চলতি অর্থ বছরে বেশ কয়েক জন বীজ ডিলারের জন্য আবেদন করেছেন। যার সংখ্যা ৮৫/৯০ জন হতে পারে বলে তিনি জনান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামে এমনকি গ্রামের হাট বাজারে বৈধ-অবৈধ গড়ে উঠা সার কীটনাশকের দোকান গুলোতেও অবাধে পাট বীজ বিক্রি হচ্ছে। জেলার ৬টি উপজেলায় এমন অনিবন্ধিত বীজ বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজারেরও অধিক বলে জানা গেছে।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাদিখালি গ্রামের চাষি জাহিদুর রহমান, ইসরাফিল হোসেন জানান, গ্রামের মোদি দোকান পাট বীজ বিক্রি হচ্ছে। এখান থেকে বীজ কিনে জমিতে সঠিক সময় বোনার পরও চারা গজায়নি। আবার পাট বীজ কিনে জমিতে বুনতে হচ্ছে। বীজ মনিটরিং কমিটির বিশেষ নজর এ দিকে দেয়া দরকার বলে তারা মনে করেন।

একাধিব ব্যবসায়ি নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, বর্তমানে কৃষি সেবায়ন, কৃষাণ, এনএসসি নবীন, মহারাষ্ট্র হালগরু এবং চাকা, হাংগ্রীর কাবেরি, চক্র, খুশি কৃষান, বিএডিসি’র পাট বীজসহ ৯-১০ প্রকার বীজ বিক্রি হয়ে থাকে। বিষয়টির দিকে বীজ মনিটরিং কমিটির নজর দেয়া দরকার বলে ব্যবসায়িরাও মনে করেন। ২ কেজি পাট বীজের প্যাকেট বর্তমান বাজারে প্রতি প্যাকেট “কৃষিসেবায়ন” বীজ ৭২০ টাকা “এন এস সি বীজ” ৬৫০ টাকা ,“গিরিরবীজ” ৭৮০ টাকা ও “মহানবীজ” ৭৩০ যা গত বছর ছিলো প্রতি ২ কেজির প্যাকেট ১৯০ থেকে ২২০ টাকা ।

এ বিষয়ে জেলা বীজ প্রত্যায়ন অফিসার কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, বীজ মনিটরিং এর বিষয়ে আন্তারিক। কোন স্থানে বীজ কিনে কৃষকরা প্রতরিত হচ্ছে, প্রতারিত হয়েছে এমন সংবাদ, অভিযোগ পেলে নিয়মানুযায়ি দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকি। এছাড়া মনিটরি স্ব্যবস্থা সার্বিক ক্ষনে অব্যাহত আছে।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব শাহ মোহাম্মাদ আকারামুল হক জানান, আমরা অনুমোদিত ডিলারদের নিকট হতে বীজ কিনে ব্যবহার করার জন্য কৃষদের সচেতন করছি।

  •  
  •  
  •  
  •