সারা দেশে চলছে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট
নিজস্ব প্রতিনিধি:
নৌপথে চুরি-ডাকাতি বন্ধ, নদী খননসহ ১৫ দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘট শুরু করেছে নৌ শ্রমিকরা।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে এ ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। ফলে সারা দেশে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মালিকপক্ষের আহ্বান ও দিনভর বৈঠকের পরও কর্মবিরতির সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন নৌযান শ্রমিকরা।
বুধবার নৌপরিবহনমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমঝোতা বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা। বৈঠকের পর বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহআলম জানান, মালিকপক্ষ ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি মেনে না নেয়ায় আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাহাজ মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, খুরশিদ আলম, অয়েল ট্যাংকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুল আলম, খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বাদল ও কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল করিম। এদিকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ধর্মঘট চলাকালে সারা দেশের যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী, পোস্টাল, ট্যাঙ্কার, বালুবাহী জাহাজ, ড্রেজার, শ্যালো ট্যাঙ্কারসহ সব ধরনের নৌযানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করবেন।
ফেডারেশনের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রত্যেক নৌশ্রমিককে নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কর্মস্থলে আহত শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসাকালে বেতন পরিশোধ ইত্যাদি।

