বাকৃবিতে প্রথমবার ‘মিট দ্য গভর্নর’, বাংলা কিউআর নিয়ে সচেতনতা
বাকৃবি প্রতিনিধি:
ক্যাশলেস লেনদেন বৃদ্ধি ও ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাকৃবিতেই প্রথম এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘এক দেশ, এক কিউআর, লেনদেন বাংলা কিউআর’ স্লোগানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন ও ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। গভর্নর তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস ও ডিজিটাল লেনদেনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণায় বাকৃবি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে। গবেষণার গতি বজায় রাখা এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতকে সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।’
‘বাংলা কিউআর’-এর বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা যায়, ফলে খুচরা টাকার সমস্যাও কমবে। একই সঙ্গে লেনদেনের খরচ কমানো সম্ভব হবে।
গভর্নর বলেন, বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে।
তিনি জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা পরিশোধ করলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন।
এ ছাড়া নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয় উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
আরাফাত হোসাইন/ এসবি

