দিনাজপুরে তীব্র তাপদাহে বিপর্যয়ের মুখে লিচু চাষ
শাহ্ আলম শাহী,দিনাজপুর থেকেঃ
তীব্র তাপদাহে দিনাজপুরে লিচু চাষে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। লাগাতার তাপদাহ ও গরমে পরিপক্ক না হতে প্রকৃতির রসগোল্লা গাছের লিচু গাছেই ফেটে চৌচির হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বাগান মালিক ও লিচু চাষীরা। গাছে সেচ ও স্প্রে করেও কোন ফল পাচ্ছেন না তারা। গাছে লিচু ফেটে চৌচির হচ্ছে। বিবর্ন আকার ধারণ করছে লিচু।
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ২’হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে রয়েছে লিচু’র বাগান। এছাড়াও বসতবাড়ীতে ৪’শ ৪০ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। ছোট বড় মিলে সাড়ে ৩ হাজার বাগানে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশী লিচুর গাছ। প্রতি বছর লিচু বিক্রি থেকে অর্জিত হয় অনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা।
লিচু বাগান কিনে এবার ক্ষতির আশংকা করছেন লিচু বাগান মলিক মোহাম্মদ হোসেন। দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী লিচু চাষের এলাকা মাসিমপুরের মোহাম্মদ আলী বলেন, বেদনা ,বোম্বাই ,মাদ্রাজি, চায়না থ্রি , কাঠালী সহ দেশীয় লিচু গাছগুলোতে এবার রেকর্ড পরিমান ফলন আশা করা হলের অব্যাহত তাপতাহের কারণে তা ভেস্তে গেছে। প্রচন্ড তাপদাহের কারণে বিপাকে পড়েছেন বাগান মালিক ও লিচু চাষীরা। গাছে সেচ ও স্প্রে করেও কোন ফল পাচ্ছেন না তারা। পরিপক্ক না হতেই গাছে লিচু ফেটে যেনো চৌচির হচ্ছে ।
ধানের জেলা দিনাজপুরে লিচুচাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। লিচুচাষে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। এবার জেলার লিচু বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত লিচু ধরলেও তীব্র তাপদাহে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলায় পনেরো দিন ধরে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বৃষ্টি না হওয়ায় গরমে গাছের লিচু গাছেই ফেটে চৌচির হচ্ছে বলে জানালেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা।
গাছের লিচু রক্ষায় বাগান মালিক ও লিচুচাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। লিচু গাছে প্রয়োগ করছেন বিভিন্ন কীট নাশক। এতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাগান মালিক ও লিচুচাষীরা। এমন মন্তব্য কৃষিবিদদের।
প্রচন্ড তাপদাহে এবার দিনাজপুরে গাছের লিচু গাছে ফেটে চৌচির হচ্ছে। এ অবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এবার লিচু ফলনে বিপর্যয় ঘটবে এমনটাই আশংকা

