পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের টুকিটাকি

জাহিদ হাসান:
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের হরহামেশাই বিষয়ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন দিতে হয়, কখনো এককভাবে আবার কখনো গ্রুপ ভিত্তিতে। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী উদ্যোগ, উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা ও পেশাগত কাজের জন্যও প্রেজেন্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর যেকোন প্রেজেন্টেশনের জন্য আমরা সাধারণত মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের স্লাইড ব্যবহার করে থাকি।

এমনটা প্রায়ই দেখা যায়, অনেক সময় ব্যয় করে পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড তৈরির পরও অনেকের প্রেজেন্টেশন ঠিক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না, কিছু ক্ষেত্রে বরং বিরক্তিকর হয়ে উঠে। কয়েকটি ছোটখাটো অথচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখলে এই বোরিং স্লাইডগুলোই হয়ে উঠবে নান্দনিক, প্রেজেন্টেশন হবে প্রাণবন্ত। চলুন টিপসগুলো দেখে নেয়া যাক-

১. যেকোন প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে, আপনার বিষয়বস্তু কী এবং আপনার শ্রোতা কারা? এ দুটি ব্যাপার মাথায় রেখেই স্লাইড সাজাতে হবে।

২. স্লাইড বানানোর আগে ‘কনটেন্ট প্ল্যান’ করে নিন। কোন স্লাইডে কী দেখাবেন, খাতায় তার একটা খসড়া করে নিতে পারেন। প্রথম স্লাইডে আপনার প্রেজেন্টেশনে কী কী বিষয় থাকছে তার একটা ‘আউটলাইন’ দিন।

৩. স্লাইড ডিজাইন নির্বাচনে কুশলী হোন। উন্মুক্ত স্থানে কিংবা সূর্যের আলো ঢোকে এমন ঘরে প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের স্লাইড ডিজাইন ব্যবহার করুন। অন্ধকার ঘরে প্রেজেন্টেশনের সময় সাদা রঙের স্লাইড ডিজাইন ব্যবহার করা ভালো।

৪. একটি স্লাইডে একই ফন্ট আর রং ব্যবহার করুন। বিষয়বস্তুর শিরোনামের ফন্ট সাইজ বড় (এবং বোল্ড) আর বাকি লেখাগুলোর ফন্ট সাইজ মাঝারি রাখুন। স্লাইডের ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হলে লেখার রং কালো কিংবা গাঢ় নীল হওয়া উচিত। কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার জন্য বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যে আলাদা রং ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫. বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে খুব অল্প কথায় স্লাইডের তথ্যগুলো লিখুন। আপনার বর্ণনায় তথ্যগুলোর বিস্তারিত চিত্র ফুটে উঠবে। স্লাইডের লেখায় শুধুমাত্র কী পয়েন্টগুলো (key point) থাকা উচিত। প্রতি স্লাইডে ছয় লাইন এবং প্রতি লাইনে সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭টি শব্দ রাখুন।

৬. প্রাসঙ্গিক ছবি ও গ্রাফ ব্যবহার করুন তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। ছবি/গ্রাফের নিচে সঠিক তথ্যসূত্র উল্লেখ করবেন। গ্রাফের তথ্য খুব সহজে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন।

৭. প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে স্লাইডে ছোট ভিডিওচিত্র দেখাতে পারেন। তবে এর দৈর্ঘ্য যেন দুই-তিন মিনিটের বেশী না হয়।

৮. স্লাইড বানানো শেষ হলে বক্তব্য তৈরি করুন। বানানো স্লাইডের উপর একক বা দলীয় প্রেজেন্টেশন অনুশীলন করুন। অনুশীলনের মাধ্যমে স্লাইডে কী কী ভুল-ত্রুটি রয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করুন।

৯. প্রেজেন্টেশনের সময় কেবল স্লাইডের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। যাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের দিকেও নজর দিন!

  •  
  •  
  •  
  •