খাল খননে হুমকির মুখে হাজারো বিঘা চাষযোগ্য জমি

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের ভবানীপুর ও লতিডাঙ্গা অভিমুখে বয়ে যাওয়া টি-১ (এস-২) সেচ খালটির খননে ব্যাপক দুর্নীতীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২.৫ কিলোমিটার খননের কাজ কোনরকমে করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজটি করেছেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা (এসও) কামাল হোসেন আখন্দ নিজেই।

স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ দাবী করেন, এই খালের দুই পাশে হাজারো বিঘা চাষযোগ্য জমি। যেখানে এই খালের পানি দিয়ে ধান, কলা, পানের বরজসহ বিভিন্ন রকমের সব্জি চাষ হচ্ছে বছরের পর বছর। কিন্তু যেভাবে খালটি খনন করা হয়েছে তাতে এবছরেই এটি আবরো ভরাট হয়ে যাবে, তাতে করে জমিগুলো হুমকির মুখে পড়বে।

এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম অভিযোগ করেন, খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খালটির দুপাড়ে লাগানো বনজ ও ফলদ ও গাছ কেটে এসও কামাল আখন্দ লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করেন।

জানা যায়, ওয়াপদা কর্তৃপক্ষ ১১ লাখ টাকার ই-টেন্ডার করে। টেন্ডারে খুলনার আমিন এন্ড কোং নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ পায়। শাখা কর্মকর্তা (এসও) কামাল হোসেন আখন্দ নিজেই ঠিকাদার সেজে কাজ করেছেন। এসও কামাল আখন্দ ঠিকাদারের নিকট থেকে ৪ লাখ টাকায় কাজটি কিনে নিজেই করছেন। কাজটি সঠিক ও যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করা হয়নি। কাজ না করেই তিনি বিল উত্তোলনের অপচেষ্টা করেন।

এ সকল বিষয়ে, এসও কামাল আখন্দ বলেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সঠিক নয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর ওয়াহিদুজ্জামান বলেন তিনি, ইতিমধ্যেই ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কথা শুনেছেন। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মতিয়ার রহমান জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে দুর্নীতির প্রমান পাওয়া গেছে। তাকে সতর্ক করে কাজগুলো ভাল মানের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •