সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার চায় ঝিনাইদহের পাখাপল্লীর হাজারো কারিগর

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিন্দাহের পাখাপল্লীর হাজারো কারিগরদের এখন সুখের সময়। হাজার-হাজার হাত পাখা এখন ঝিনাইদহ থেকে যাচ্ছে যশোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ফরিদপুরসহ ১০ থেকে ১৫টি জেলায়। নানান ডিজাইন ও রং-বেরংয়ের এসব পাখা বিক্রি করে ঝিনাইদহ জেলার হাজরো পরিবার টিকে আছে বছরের পর বছর। কাজের ব্যস্ততায় শরীর ঘেমে মাটিতে পড়লেও নিজেদের তৈরি তালপাখার বাতাস নেওয়ার সময় তাদের নেই।

দুলালমুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম জনানলেন, তাদের পূর্বপুরুষেরা এই পাখা তৈরীর কাজ করতেন। পৈতৃক এই পেশাকে এখন টিকিয়ে রাখতে দরকার সরকারী পৃস্টপোষকতা। সহজ শর্তে লোন এবং স্থানীয় বাজার।

পাখা কারিগর মোস্তফা ও আব্দুর রহিম জানায়, পুঁজি না থাকায় এবং অনেক দূর থেকে পাতা কেনার কারণে পরিবহনে অনেক বেশি খরচ পড়ে যায়। জন্মগতভাবে এ পেশাকে পেয়ে থাকে বলেই তাদের ছেলেমেয়েরাও বিভিন্ন নকশার পাখা তৈরীতে পারদর্শী। হাতপাখা তৈরীর প্রধান উপকরণ তাল পাতা এই এলাকাতে পাওয়া যায় না। শীত মৌসুমে ফরিদপুর ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চারাগাছের পাতা কিনে আনেন তারা। তারপর পাতা রোদে শুকিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। পানি থেকে উঠিয়ে নরম ভেজা পাতা গোলাকার করে কেটে মাঝখান থেকে দু-খন্ড করেন। এরপর বোঝা বেঁধে পাতা ঘরে রেখে দেন এবং সেখান থেকে নিয়ে সারাবছর বাড়িতে বসে তালপাখা তৈরী করেন। একটি তালপাতা থেকে দুটি তালপাখা তৈরী হয়।

কারিগর মজনু মিয়া জানান, বছরে ২/৩ মাস তাল পাখার বেশি চাহিদা থাকে। চৈত্র থেকে শুরু করে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যস্ত বিক্রির মৌসুম হলেও চৈত্র ও বৈশাখ মাসই পাখা বিক্রির উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, প্রতিটি পাখা তৈরি পর্যন্ত প্রায় আট থেকে ১০ টাকা খরচ হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ টাকা টাকা। অবশ্য পাইকার ব্যবসায়ীরা উপরোক্ত দামে পাখাগুলি তাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। তারা একটি পাখা ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে। অবশ্য খুব গরমের মধ্যে হাতপাখার চাহিদা বেশি হওয়ায় সে সময় একটি পাখা তারা ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করে।

একজন কারিগর প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টি তালপাখা তৈরী করতে পারেন। ফলে প্রতিটি কারিগর বিক্রির মৌসুমে দিনে যাবতীয় খরচবাদে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে পারেন। পাইকাররা এখন বাড়ি থেকেই পাখা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পরিবহন খরচ থেকে রেহাই পাচ্ছেন।

কালীগঞ্জ ইএনও মানোয়ার হোসেন মোল্ল্যা জানান, অবশ্যই সরকার তাদের প্রতি সচেষ্ট আছে। তারা যদি আবেদন করে তবে অবশ্যই সহজ শর্তে তাদেরকে সরকারী লোন দেওয়া হবে। অন্যদিকে এই শিল্পকে বাচিয়ে রাখার জন্যে যা-যা করা যায় তার সবই করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •