ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু বাগানের সূতিকাগার মুন্সিরহাট গ্রাম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
লিচু চাষ করে একটি গ্রামের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক পরিচয় বদলে ফেলেছে। এক সময়ের বিরাণভূমি মুন্সির হাট এখন লিচু উৎপাদন ও বিপননের বানিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। লাল টুকটুকে ফলের আদলে রঙিন হয়ে ওঠেছে এলাকার মানুষের স্বপ্ন, প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা।
ঠাকুরগাঁও শহরের পশ্চিমে মুন্সির হাট, পৌরসভার ১০ নম্বার ওয়ার্ডের একটি মহল্লা। এখানে ভাগ্য বদলের সাথে সাথে বদলে গেছে পেশা, মানুষের কৃষিগত ধারণা। এখন এই এলাকা বাগান বাড়ি নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বাগানটি এক নজর দেখলে জুড়িয়ে যায় মন-প্রাণ।
এখানকার বাসিন্দা মৃত শাহ্ মোহাম্মদ আজগর আলী ও মৃত এসার আলী প্রায় একশ বছর আগে ভারতের মালদহ এলাকা থেকে ৫০টি লিচু চারা নিয়ে আসেন । পরে ওই চারাগুলো থেকে কলম করে একে একে গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরবর্তিতে আজগর আলী ১৬৫ টি গাছ এবং এসার আলী ৫০টি গাছ নিয়ে বাগান তৈরি করেন। বাগানে লাল টুকটুকের লিচুফল আসতেই এলাকার লোকজন অভিভূত হয়ে পরে । বাগানের আয় দেখে এলাকার অনেকেই লিচু বাগান করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
আজগর আলী ও এসার আলীর কাছ থেকে অনেকেই লিচুর চারা সংগ্রহ করে করে নিজ বাড়িতে শখেরে বসে লিচুর গাছ রোপন করেন। তারা স্বপ্ন দেখতেন পুরো এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে লিচুর বাগান। সেই লক্ষ্যেই এলাকার মানুষকে নানা ভাবে উদ্বুদ্ধ করতেন ঐ দুই লিচু চাষী । লক্ষ্য একটাই লিচু বাগান করে এলাকার মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরানো। সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেয়। তাদের পরামর্শে অনুপ্রানিত হয়ে এলাকার বেশীরভাগ লোক লিচু বাগানের দিকে ঝুকে পরে। এ জন্য পুরো জঙ্গল এলাকাটি পরিষ্কার করে লিচু চাষে মনোনিবেশ করে প্রায় সবাই । বর্তমানে ওই মহল্লায় ১শ ১০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে ৫০টি ছোট বড় লিচুর বাগান।
শাহ্ মোহাম্মদ আজগর আলীর মৃত্যুর পর ১০ ছেলের মধ্যে ৮ ছেলেই আলাদা আলাদা লিচুর বাগান তৈরি করে। এ পরিবারের ৮ ছেলের ২ হাজার ২শ লিচুর গাছ রয়েছে। আর গ্রামের অন্য চাষিদের গাছ রয়েছে ২ হাজার।
সরকারি হিসেবে এবছর ঠাকুরগাঁও জেলার ৬শত ৫ হেক্টর জমিতে যে লিচু চাষ হয়েছে তার অর্ধেকই এই মহল্লায়। সে হিসেবে লিচু বিক্রি করে কৃষকেরা ৪০ কোটি টাকা আয়ের অর্ধেক অর্জন করেছে ঠাকুরগাঁও রোডের মুন্সির হাট মহল্লা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের পরামর্শ দেয়া হয়।

