রংপুরে ৪০০ বিঘা জমির আখ খেয়েছে মাজরা পোকা
জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
রংপুর চিনিকলের আওতায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাঞ্জ এলাকার প্রায় ৪শ বিঘা জমির আখ এবার মাজরা পোকা খেয়ে ফেলেছে। ফলে মাঠের পর মাঠ মরা বিবর্ণ দন্ডায়মান আখ নিয়ে দিশেহারা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
সময়মতো চিনিকল কর্র্তৃপক্ষের সরবরাহ করা কিটনাশক ও বাজার থেকে সরবরাহ করা কিটনাশক প্রযোগ করেও কোন কাজ হয়নি বলে দাবী করছেন কৃষকরা। পর্যাপ্ত অর্থ ব্যায় করে দীর্ঘ মেয়াদী আখ আবাদ করলেও মাজরা পোকায় খেয়ে ফেলার কারণে মহিমাগঞ্জের সতীতলা ও পুনতাইড় এলাকার দুটি ব্লকের জমির মরা আখ নিয়ে এখন চরম বিপাকে রয়েছেন এলাকার কৃষকরা ।
রংপুর চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর চিনিকলের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় এবার ৩ হাজার ৮৮২ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়। এলাকাবাসী ও চিনিকলের পরিসংখ্যানে চিনিকল স্থাপিত হওয়ার পর এবারই প্রথম এত কম পরিমানের আখ চাষ হয়েছে। কম জমিতে আখ চাষ হলেও আখের ফলন হয়েছে ভালো।
তবে মহিমাগঞ্জ চিনিকল এলাকার পুনতাইর ও সতিতলা ব্লকের চাষ করা আখে ব্যপক ভাবে মাজরা পোকা ও রোগবালাই আক্রান্ত হয়। ফলে এসব এলাকার আখের ক্ষেত আস্তে আস্তে মরে যেতে শুরু করে। এ কারণে ক্ষেতের পর ক্ষেত আখ মরে শুকিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একাধিক আখ চাষী জয়নাল, ময়নুল ও আনছার আলী জানান, দায়িত্বরত চিনিকলের আখ উন্নয়ন সহকারীর সাথে যোগাযোগ করে তার দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী এবং তার সরবরাহ করা কীটনাশক আক্রান্ত জমিতে প্রয়োগ করা হলেও তাতেও কোন ফল হয়নি ।
তারা আরও জানান, আখের জমিতে সাদা রং এর পোকা প্রথমে ফুটাকরে কান্ডের ভেতরে ঢোকে পরে আস্তে আস্তে পুরো আংশটি খেয়ে ফেলে। মাত্র দুই সাপ্তহের মধ্যে এসব এলাকার প্রায় ৪০০ বিঘা জমির আখ পোকা ও রোগবালায়ে মরে শুকিয়ে যায়। আর মাত্র একমাস পরেই যেখানে আখ চিনিকলের সরবরাহ করে টাকা পাওয়ার কথা ছিল ঠিক তার পূর্বমূহর্তে আখ মারা যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
পুনতাই গ্রামের আখ চাষী নজরুল ইসলাম, লিটন মিয়া জানান, জমির মরা আখ কেটে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাড়ী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একমাত্র অর্থকারী ফসল আখের এই দুরাবস্থায় হতাশায় পড়েছেন এলাকার আখ চাষীরা। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সহযোগিতা চান চিনিকল কর্তৃপক্ষের। তাই কৃষকরা দ্রুত চিনিকল চালুর দাবি জানিয়েছেন।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক বলেন, ‘পোকা আক্রান্ত এলাকায় বিভিন্ন ধরণের কিটনাশক প্রয়োগসহ পোকা ও রোগ বালাই প্রতিরোধে নানা ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। কিন্ত চলতি মৌসুমে তা কাজ হয়নি। এটা এক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আগামীতে পোকা দিয়ে যাতে কৃষকরা ক্ষতির শিকার না হয় তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেয়া হবে। আক্রান্ত আখের জমির পরিমান বাড়ছে। তাই দ্রুত চিনিকলটি চালু করা হবে’।

