তিল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে গাইবান্ধার চাষীরা
জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
পতিত জমিতে তিল চাষ করে লাভবান হচ্ছে গাইবান্ধার চার উপজেলার চাষীরা। কোন রোগবালাই না থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকুলের কারনে এবার তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে প্রতিমণ তিল দুই হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অন্যান্য ফসলের চেয়ে তিল চাষে লাভ বেশি হচ্ছে কৃষকদের। এ কারণে দিন দিন তিল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা।
কৃষিস্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবছর খরিপ মৌসুমে গাইবান্ধার সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ. সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ি উপজেলায় ২শ’ ৮০ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ মণ তিল উৎপাদন হচ্ছে এবং তা বাজারে ২ হাজার ৪শ’ থেকে ২ হাজার ৮শ’ টাকায় প্রতিমন বিক্রি হচ্ছে। তিল চাষ করতে খুব অল্প খরচ হয় এবং খুব কম সময়ে ভালো ফলন পাচ্ছে কৃষকরা। এ কারণে দিন দিন তিল চাষ বাড়ছে গাইবান্ধায়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তানুককানুপুর গ্রামের তিলচাষী আমানউল্যা বলেন, বছরের ফাল্গুন মাসে তিল বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। জ্যেষ্ঠের শেষে ও আর্ষাঢ মাসে এ ফসলটি ঘরে তোলা যায়। বীজ বপনের পর ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়ায় একই জমিতে অন্যান্য রবি ফসল চাষও করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কম খরচে সেচ ও সার দিয়েই তিলের চাষ হওয়ায় চাষীদের লাভ হচ্ছে বেশি।
গাইবান্ধর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছাহারা বানু বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলায় তিলের চাষ বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সহযোগিতা এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। স্বল্প মেয়াদী উচ্চমুল্যের অর্থকরী ফসল তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহী বাড়াতে পারলে একদিকে যেমন কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে সেই সাথে দেশে তিলের চাহিদাও পুরন হবে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।

