সাদুল্যাপুরে প্রকৌশলী আজিজুল হকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুল হকের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়মূলক বিভিন্ন কাজে স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনি গোপন চুক্তিতে নিজেই ঠিকাদার সেজে টেন্ডর বা কোটেশন ছাড়া কাজ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরকারের চলমান উন্নয়ন কাজ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। ফলে প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জনসাধারণ, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে, প্রকৌশলী আজিজুল হকের এসব স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান হাবিরের কাছে বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌখিক অভিযোগ করেছেন সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ও প্রকৌশলী আজিজুল হককে টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়া সকল কাজ বন্ধ রাখার আহবান জানান।
অভিযোগে জানা যায়, প্রকৌশলী আজিজুল হক উপজেলায় যোগদানের পর থেকে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সরকারী বিভিন্ন উন্নয়মূলক কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন। চলতি অর্থ বছরে সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য এডিবি থেকে ৪১ লাখ ৪২ হাজার ও পিডিবি-৩ থেকে ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু প্রকৌশলী আজিজুল হক অধিকাংশ কাজে টেন্ডার বা কোটেশন আহবান না করে গোপন চুক্তিতে অন্যর নাম ব্যবহার করে ঠিকাদার সেজে নিজেই কাজ করছেন। এছাড়া কোন প্রকার টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই পাপুল নামে এক ঠিকাদারের নাম ব্যবহার করে সাদুল্যাপুর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কক্ষে ২ লাখ টাকার টাইলস বসানোর কাজ নিজেই করছেন প্রকৌশলী। পরে স্থানীয় এলাকার লোকজন কাজটি বন্ধ করে দেন। তাছাড়া উপজেলা পরিষদের কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজও ঠিকাদার পাপুলের নাম করে করছেন তিনি।
সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শাহ মো. ফজলুল হক রানা অভিযোগ করে বলেন, প্রকৌশলী আজিজুল হক স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে একের পর পর অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি এডিবি প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার বা কোটেশন না দিয়ে মাছের পোনা, টিউবয়েল, প্যালাসাইটিং ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের সরঞ্জাম ক্রয়ের লক্ষে গোপনে তার মনোনিত কয়েকজনের সঙ্গে চুক্তি করেন। ফলে এসব উন্নয়ন কাজের বারোটা বাজিয়ে তিনি সরকারী অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের পায়তারা করছেন।
সাদুল্যাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোন্তেজার রহমান চঞ্জল জানান, প্রকৌশলী তার নিজের ইচ্ছে ও মনগড়াভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করছেন। তিনি নিজের মনোনিত তিন-চারজনকে দিয়ে অধিকাংশ কাজ করছেন। নি¤œমানের কাজ করে তিনি সরকারী টাকা আত্মসাত করে আসছেন। এছাড়া তালিকাভূক্ত ঠিকাদারদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী ও তাদের নিকট প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে কমিশন বাণিজ্যে করে আসছেন তিনি।
সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. ছামছুল হক ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান আকতার বানু লাকি জানান, উপজেলায় সরকারী উন্নয়ন কাজের ফাইল সম্পর্কে তারা অবগত নন। প্রকৌশলী দুর্নীতি ও স্বজনপ্রিতির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করে সরকারী অর্থের অপব্যবহার করছেন।
তবে এসব স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হকের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

