সুন্দরগঞ্জে নিহত আবদুল হালিমের পরিবারের খোঁজখবর নিলেন ইউএনও

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামালেরহাট এলাকার মাইক্রোবাস চালক আবদুল হালিমের (৪৫) পরিবারের খোঁজখবর নিলেন সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আহসান হাবীব।

শুক্রবার দুপুরে তিনি জামালেরহাটে আবদুল হালিমের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেন। পরে ব্যক্তিগত ভাবে তিনি নিহত আবদুল হালিমের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী সম্পা খাতুনের হাতে নগদ ২ হাজার টাকা তুলে দেন। এসময় জামালেরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরেশ চন্দ্র মন্ডল ইউএনও’র সঙ্গে ছিলেন।

ইউএনও আহসান হাবীব জানান, তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকা সময়ে ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর রাতে জামালেরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও প্রাচীর নির্মাণ কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও আওয়ামীলীগের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় জামায়াত-শিবির আবদুল হালিমের মাইক্রোবাস পুড়ে দিয়ে তার উপর হামলা চালানা। এতে আবদুল হালিম গুরুত্বর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ নভেম্বর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

তিনি আরও জানান, দুই স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে আবদুল হালিমের সংসার। মাইক্রোবাস চালিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। আবদুল হালিম মারা যাওয়ায় তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। সে সময়ে সরকারী ভাবে তার পরিবারকে সামান্য কিছু সহযোগিতা করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর তার ছেলে লিটন মিয়াকে ওই বিদ্যালয়ে নৈশ্য প্রহরীর চাকুরী ও মেয়ে সম্পা খাতুনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সুন্দরগঞ্জ থেকে বদলির কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবারের এসএসসিতে সম্পা খাতুন জামালেরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে পাশ করে। সংসারে অভাব থাকায় সম্পা তার তার বড় বোনের বাড়ি লালমনিরহাটে থেকে লেখাপড়া করছে। আবদুল হালিমের পরিবারকে আরও সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •