ঝিনাইদহের ইউড্রেনগুলো যেন টাকা আত্বসাতের হাতিয়ার
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে ইউড্রেনগুলো যেন জনপ্রতিনিধিদের ও সরকারি কর্মকর্তাদের টাকা আত্বসাতের হাতিয়ার হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিবছরই একই ইউড্রেন নতুন করে নির্মান দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হ”্ছ,ে এমনই ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়।
সংশ্লিষ্ঠ অফিসে খোজ নিয়ে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এডিবি’র অর্থায়নে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রতিবছরই বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেন। যার মধ্যে নলকুপ স্থাপন, ইউড্রেন নির্মান, রাস্তা নির্মান, মসজিদ-মন্দির সংষ্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ সরবরাহ ইত্যাদি রয়েছে। প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে সর্বচ্চো ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কমিটি কাজ শেষে বিল দাখিল করে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। কাজ দেখাশুনা করেন এলজিইডি।
অফিস সুত্রে আরো জানাগেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৯৫ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। একই বরাদ্ধপত্রে রায়গ্রাম ও রাখালগাছি ইউনিয়নে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা করে ৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১১ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ১১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়গ্রাম ইউনিয়নে ৩ লাখ, রাখালগাছি ইউনিয়নে ৪ লাখ ও উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।
অফিসের একটি সুত্র জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বরাদ্ধের এই প্রকল্পগুলো একাধিকবার দেখানো হয়েছে। বরাদ্ধপত্র দেখা গেছে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে রায়গ্রাম ইউনিয়নের অতিরিক্ত বরাদ্ধের টাকায় ভাতঘরা জামতলার মেইন রাস্তার পাশে ইউড্রেন নির্মান ও খামার মুন্দিয়া গ্রামে ইসমাইলের বাড়ির পাশে ইউড্রেন নির্মান, রাখালগাছি ইউনিয়নে আনিচুরের বাড়ির পাশে ইউড্রেন নির্মান ও বহিরগাছি শ্যামের জমির পাশে ইউড্রেন নির্মান প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। দুই অর্থ বছরেই একই প্রকল্প কমিটি দেখানো হয়েছে। যার সভাপতি নাম দেওয়া হয়েছে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও স্বপন আলী। অবশ্য তারা জানিয়েছেন এই সম্পর্কে কিছুই জানেন না, এমনকি কোনো স্বাক্ষর করেননি। এগুলো আত্বসাতের জন্য দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি সুত্র জানিয়েছেন।
রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, তারা ৭৮,৪০০ টাকা ব্যয় করে এটি নির্মান করেন। অথচ এডিবি’র বরাদ্ধ দেখিয়ে আরো দুই অর্থ বছরে এই দুইটি প্রকল্পে টাকা তোলা হয়েছে।
রাখালগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এলজিএসপি’র টাকায়৬৮ হাজার টাকা খরচ করে এটি তারা করেছেন। অথচ এই দুইটি প্রকল্পও রয়েছে ওই দুই অর্থ বছরের তালিকার মধ্যে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুররহমান জানান, এই সকল প্রকল্পগুলো জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। তারপরও পর পর দুই বছর একই প্রকল্প দেওয়া হলে সেগুলো সংশোধন করা হবে বলে জানান। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বিল উত্তোলন হয়ে গেলে কিভাবে সংশোধন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনে টাকা ফেরত চাওয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

