তানোরে শেষ মুর্হূত্বে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

মিজানুর রহমান, তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা :
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজশাহীর তানোর উপজেলার ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ঈদের বাকি আর মাত্র অল্প কয়েকদিন। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ততোই বাড়ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে। মার্কেটগুলো ছোট-বড়, কিশোর-কিশোরীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এমনকি থেমে নেই উপজেলার ফুটপাতের দোকানগুলোর কেনাকাটা।
এদিকে, টেইলার্সের দোকান গুলোতে পোষাক তৈরির ব্যস্ততা ক্রমেই বাড়ছে। যেকরে হোক ঈদের আগে অর্ডারী পোষাক সরবরাহ করতেই হবে। টেইলার্সের কারিগররা দিন-রাত বিরামহীন ভাবে কাজ করছে। আবার অনেকে সময়ের অভাবে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

বুধবার সারাদিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের ঈদ বাজারে নরমাল, নবাব, প্রিন্ট, বুটিক ও হাতে কাজ করাসহ বাহারী ডিজাইনের নানা বৈচিত্রের ছেলেদের পাঞ্জাবী বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদে পাঞ্জাবীর কদর প্রতি বছরের মত এবারো রয়েছে। ঈদে শিশু-কিশোর, বড়দের সবার বাড়তি আকর্ষণ পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবীর পাশাপাশি তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফিটিং হাফ শার্ট, ফুল শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবী। এছাড়া মেয়েদের থ্রি-পিছের পাশাপাশি বাড়তি আকর্ষণ মাস্তানি, লেহেঙ্গা, কিরনমালা, প্যাজি, ফুলপরি, ললিতা, মাছাক্কালি, স্কার্ট প্রভৃতি।
শার্টের মধ্যে তরুণদের আগ্রহ বেশি ফুল ও হাফ হাতা। আবার অনেকে টি-শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবী পছন্দ করছে। এসব পোষাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে বেল্ট, নানা রঙের জুতা-সেন্ডল এমনকি বাহারী ডিজাইনের সানগ্লাস-চশমা কিনছে।
অন্যন্য বছরের ন্যায় এ বছরও তৈরী পোষাকের কারুকার্যের জন্য লেইস, চুমকি, পুতির কদর বেড়েছে। তবে এবার লেইস, চুমকি, পুতি ও স্টোনের ডিজাইনে এসেছে বৈচিত্র।
এবছর উপজেলার অভিজাত বস্ত্র বিতানগুলোতে এসেছে টাঙ্গাইল, ক্রেপ নেট, বাসু, সিমার, স্মোক, পূর্বা সাহানা মসলিন, ক্যাটরিনা ক্রেপ, মৌসুমী সিল্ক, জয়পুরী কারচুপি ও জামদানি শাড়ি। এছাড়া পাওয়া যাচ্ছে মসলিন সিল্ক, মটকা শাড়ি, তাঁত, জয়ন্ত্রী শিল্পের কাজ করা শাড়ি। এছাড়াও বাজারে এসেছে জুট বেনারসি, মিরপুরী কাতন, জামদানী সিল্ক, টাঙ্গাইল তাঁত, জর্জেট ও হাফসিল্ক শাড়ি। পোষাকের পাশাপাশি চুড়ি, ফিতা, মেহেদী, ক্লিপ, পায়েলসহ রূপচর্চার কসমেটিক্স, পারফিউম সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। আতর, টুপি, জায়নামাজ ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। অন্যদিকে উপজেলা সদরের জুয়েলার্সের দোকানগুলোতে স্বল্প পরিসরে উচ্চাবিলাসী ক্রেতাদের ভীড় দেখা যাচ্ছে।
তবে বিক্রেতারা নতুন ডিজাইনের অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বেশি নিচ্ছে বলে অনেকে জানান। সারাদেশের ন্যায় তানোরেও গত বছরের তুলনায় জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ঈদে ছেলে-মেয়েদের চাহিদা পূরণ করতে মধ্যবিত্ত পরিবারেরা হিমশিম খাচ্ছে।

ঈদের বাজার সম্পর্কে গোল্লাপাড়া বাজারের তুষার গামেন্টসের মালিক তৌহিদুল ইসলাম জানান, রমজানের শুরুতে বেচা বিক্রি ভালো না হলেও দিন যতই গড়াচ্ছে বেচাবিক্রি ততই বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও এবার ঈদের বেচাকেনা ভাল হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উপজেলার তালন্দ বাজারের ছিট কাপড় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের ঈদ বাজারে ছিট কাপড় কম বিক্রি হচ্ছে।
তবে উপজেলার মুন্ডুমালা বাজারের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মিঠু জানান, ঈদ বাজারে প্রতিবারই কসমেটিক্স পণ্যের ব্যাবসা ভালো হয়। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি বলে জানান তিনি। তবে ক্রেতাদের দাবী সারাদেশের ন্যায় এবার তানোরের বাজার মূল্য অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। তারপরও তারা নিজের পছন্দের জিনিসটি প্রয়োজনের তাগিদেই সাধ্যানুযায়ী ক্রয় করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: