‘ভাতার টাকা তুলতে মোর এতো কষ্ট ভালো লাগেনা’
জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
‘দুই দিন ধরে ঘুরছম কিন্তু টাকা তুলবার পাম নাই। শরীর চলে না, চোঁখেও কম দেখম। রোজা থেকে টাকা তুলবার আসি এতে কষ্ট মোর আর ভালো লাগেনা। খালি কয় ডাক পড়লে টাকা পাবেন’। এভাবে কথাগুলো বলছিলেন বয়স্ক ভাতা তুলতে আসা ৯৫ বছরের বৃদ্ধা মো. মফিরন বেগম। মফিরন বেগম গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চকদাড়িয়া গ্রামের মো. কছির আলীর স্ত্রী।
মফিরন বেগম বয়স্ক ভাতার টাকা তুলতে এসেছেন সাদুল্যাপুর অগ্রণী ব্যাংক শাখায়। তিনি বাড়ি থেকে অন্তত ৪-৫ কিলোমিটার পথ ভ্যান রিক্সা করে এসেছেন।
বুধবার দুপুরে সাদুল্যাপুর শহীদ মিনার চত্তরের পাশের এক দোকানে সামনে কথা হয় মফিরন বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিন থেকেও টাকা তুলতে পারেননি। বুধবার সকালে তিনি আবারও এসেছেন টাকা তুলতে। ডাক পড়েনি তাই চুপচাপ বসে আছি ডাক পড়ার আশায়।
শুধু মফিরন নয় তার মতো কয়েক শ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধীদের কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ রিক্সা-ভ্যানে, কেউ গাদাগাদি করে বসে আবার কেউ কেউ ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছেন শহীদ মিনারের পদতলে। সবার একটাই অপেক্ষা কখন ডাক পডবে।
বয়স্ক ভাতা নিতে আসা অনেকে চোখে কম দেখেন, ঠিকভাবে হাঁটতে পারেন না। আবার কেউ শারীরিকভাবেও অসুস্থ। তাঁরা কেউ এসেছেন বয়স্ক, কেউ বিধবা, কেউবা প্রতিবন্ধী ভাতা তুলতে। সাদুল্যাপুর উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এসব দুস্থ মানুষ। সাতসকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন তাঁরা। তারপর চলছিল অপেক্ষার পালা। কয়েক মাস পরপরই ব্যাংক বা শহীদ মিনারের সামনে এ চিত্র দেখা যায়। চলছে বছরের পর বছর।
বুধবার দুপুরে শহীদ মিনার চত্তরে দেখা যায় অগ্রণী ব্যাংকের শুধু একজন কর্মকর্তা ভাতা নিতে আসা নারী-পুরুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করছেন। গত দুই দিন ধরে তিনি একাই টাকা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি জানান, অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবার নারী রয়েছেন ভাতা ভোগী। তাঁরা মাথাপিছু পান ১ হাজার ২০০ টাকা করে ভাতা।
অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়া টিয়াগাছা ভবানিপুর গ্রমের ছামছুল হক নামে এক বৃদ্ধে দ্য রিপোর্টকে জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পযন্ত থেকেও টাকা তুলতে পারেন নাই। বুধবার এসেছেন সকাল নয়টার দিকে। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর দুপুর ২টার দিকে অসুস্থ হয়ে মাটিতেই শুয়ে পড়েন।
এদিকে, সাদুল্যাপুর অগ্রণী ব্যাংক ম্যানেজার মো. ওবায়দুর রহমান কর্মকর্তা বলেন, ‘উপজেলার ১১ ইউনিয়নে প্রায় ১২ হাজার বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পান। এরমধ্যে অগ্রণী, সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় আলাদা ভাবে টাকা বিতরণ করে থাকে। তকে ঈদ উপলক্ষে একবারে এতোগুলো কার্ডধারীর অনেকেই প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে এসে ভিড় করেন। তারা যদি দুই এক দিন পর আসেন, তাহলে এই পিড়াপিড়ি হতো না’।

